স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘুম থেকে উঠেই অনেকেই ফোন হাতে নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কী ঘটছে তা দেখেন। দিনের বিভিন্ন সময় স্ক্রিনে ফিরে আসতে আসতে কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, তা অনেক সময় টের পাওয়া যায় না। এই ধারাবাহিক অনলাইন নির্ভরতার মধ্যেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডিজিটাল ডিটক্স বা সচেতনভাবে কিছু সময়ের জন্য অফলাইনে থাকার প্রবণতা।
ডিজিটাল ডিটক্স বলতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্মার্টফোন, ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার অভ্যাসকে বোঝায়। এটি প্রযুক্তি পুরোপুরি ত্যাগ নয়, বরং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানসিক ও সামাজিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার একটি সচেতন উদ্যোগ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন অনেকেই সপ্তাহে একদিন বা দিনে কয়েক ঘণ্টা ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। কেউ ছুটির দিনে ফোন বন্ধ রাখছেন, আবার কেউ নির্দিষ্ট সময়ের পর আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন না। যদিও অনেক সময় এমন আচরণে আশপাশের মানুষ বিরক্ত হন, তবুও ব্যক্তিগত মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটি গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্মার্টফোন ব্যবহারের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এর নেতিবাচক প্রভাবও সামনে এসেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও ঘুমের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। পাশাপাশি ভুয়া তথ্য ও এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর কনটেন্টও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি, ভিডিও বা খবর অনেক সময় এতটাই বাস্তব মনে হয় যে সত্য-মিথ্যা পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই সচেতনভাবে কিছু সময়ের জন্য অনলাইন থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এতে মানসিক চাপ কমে, মস্তিষ্ক বিশ্রাম পায় এবং মনোযোগ বাড়ে। রাতে ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার কমালে ঘুমের মানও উন্নত হয়।
এছাড়া পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়ে, বাস্তব সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। কাজের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন থেকে দূরে থাকলে উৎপাদনশীলতাও বাড়ে।
ডিজিটাল ডিটক্স শুরু করতে বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখা, ঘুমানোর আগে এক ঘণ্টা স্ক্রিন এড়িয়ে চলা, খাবারের সময় ফোন দূরে রাখা বা অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করার মতো ছোট অভ্যাস থেকেই শুরু করা যায়।
সিএ/এমআর


