ইসলামে পারস্পরিক সহমর্মিতা, দয়া এবং ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন মুসলমানের দুঃখ-কষ্ট অন্য মুসলমান অনুভব করবে—এ শিক্ষাই পাওয়া যায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিভিন্ন হাদিসে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঈমানদারদের সঙ্গে একজন ঈমানদারের সম্পর্ক ঠিক তেমন যেমন দেহের সঙ্গে মাথার সম্পর্ক। সে ঈমানদারদের প্রতিটি দুঃখ-কষ্ট ঠিক অনুভব করে যেমন মাথা দেহের প্রতিটি অংশের ব্যথা অনুভব করে।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৫/৩৪০)
অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন, যে তার বান্দাদের প্রতি দয়া করে।’ (বোখারি : ১৭৩২)
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন কিংবা অন্যায়ের শিকার হলে সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জন্য দোয়া করা মুসলমানদের নৈতিক দায়িত্বের অংশ।
পবিত্র কোরআনের সুরা হাশরের ১০ নম্বর আয়াতে মুমিনদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই দোয়ায় নিজেদের পাশাপাশি ঈমানে অগ্রগামী মুসলমানদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং অন্তরে বিদ্বেষ দূর করার আবেদন জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া সুরা নুহের ২৬ থেকে ২৮ নম্বর আয়াতেও অন্যায় ও জুলুম থেকে মুক্তির জন্য এবং মুমিনদের ক্ষমার জন্য বিশেষ দোয়ার উল্লেখ রয়েছে।
আলেমরা বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে দোয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হয়।
সিএ/এমআর


