নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার একটি গ্রামে ৯ বছর বয়সী এক শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে শিশুটির বাবা অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে বারহাট্টা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত ও বিবস্ত্র অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান তার স্বজনেরা। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।
শিশুটির পরিবার জানায়, শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে শিশুটির মা তাকে খাবার দিয়ে বাড়ির সামনের মাঠ থেকে ছাগল আনতে যান। প্রায় আধা ঘণ্টা পর বাড়িতে ফিরে এসে তিনি মেয়েকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার কিশোর ও দুই তরুণকে আটক করে। আটক চার কিশোরের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে এবং বাকি দুই তরুণের বয়স প্রায় ২২ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. মাজহারুল আমিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গোপনাঙ্গে কিছুটা ক্ষত দেখা গেছে। শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাইনি। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।’
এ বিষয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। ছয়জনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ওই ঘরে একটি গেঞ্জি পাওয়া গেছে। সেটিও জব্দ তালিকায় রাখা হয়েছে। আশা করছি, ঘটনার রহস্য দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’
সিএ/এমই


