প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে খুব বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে দেখা যায়নি। আক্রমণে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। বরং ম্যাচের বড় অংশজুড়ে প্রতিপক্ষ সেনেগালই ছিল বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এমবাপ্পে।
নিউ জার্সি/নিউ ইয়র্ক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ফ্রান্স। জয়ের নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে করেছেন জোড়া গোল। আর একটি গোল এসেছে বদলি হিসেবে নামা ব্র্যাডলি বার্কোলার কাছ থেকে।
ম্যাচের শুরুতে ফ্রান্সকে বেশ চাপে রাখে সেনেগাল। ২৫ মিনিটে গোলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল দলটি। নিকোলাস জ্যাকসনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ঁর গায়ে লেগে জালে না গিয়ে বাইরে চলে যায়।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও বড় সুযোগ নষ্ট করে সেনেগাল। ইসমাইল সার গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। ফলে ভালো খেলেও বিরতিতে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ায় ফ্রান্স। ৫২ মিনিটে মাইকেল ওলিসের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকান সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্ডি। এরপর ৫৭ মিনিটে এমবাপ্পের নিশ্চিত গোলও রুখে দেন তিনি।
ফ্রান্সের অপেক্ষার অবসান ঘটে ৬৬ মিনিটে। ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। সেই গোলের মাধ্যমে ফ্রান্সের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় অলিভিয়ের জিরুর রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।
সেনেগাল দ্রুত ম্যাচে ফিরতে চেয়েছিল। দুই মিনিট পর বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। এরপর সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয় তাদের।
৮২ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান বদলি হিসেবে নামা ব্র্যাডলি বার্কোলা। আদ্রিয়েন রাবিওর পাস থেকে সহজ ফিনিশিংয়ে ফ্রান্সকে আরও স্বস্তিতে নিয়ে যান তিনি।
যোগ করা সময়ে ইব্রাহিম এমবায়ের গোলে ব্যবধান কমিয়ে সেনেগাল কিছুটা আশা দেখালেও সেই আশা বেশি সময় টেকেনি। ম্যাচের শেষদিকে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে এবং নিশ্চিত করেন ফ্রান্সের জয়।
এই গোলের মাধ্যমে ফ্রান্সের জার্সিতে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৫৮। ফলে তিনি এককভাবে দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যান।
বিশ্বকাপের গোলদাতাদের তালিকাতেও আরও ওপরে উঠে এসেছেন এমবাপ্পে। তার মোট গোল এখন ১৪। ফলে তিনি লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে নতুন অবস্থানে উঠে এসেছেন। সামনে এখন কেবল রোনালদো নাজারিও ও মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড।
ফ্রান্সের জন্য এটি ছিল আত্মবিশ্বাসী শুরু, আর এমবাপ্পের জন্য ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করার আরেকটি রাত।
সিএ/এমই


