দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শুধু শিশুরাই নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত শৈশবে হাম হয়ে গেলে বা টিকা গ্রহণ করা থাকলে পরবর্তী জীবনে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো বয়সের মানুষই সংক্রমণের মুখে পড়তে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা আগে হামের টিকা নেননি, অসম্পূর্ণ ডোজ নিয়েছেন অথবা যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী, স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ গ্রহণকারী এবং কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন—এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি।
চিকিৎসকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের টিকাদানে ঘাটতির কারণে সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা বা হার্ড ইমিউনিটির কার্যকারিতা কমে গেছে। এর ফলে সমাজে ভাইরাসের বিস্তার সহজ হয়েছে।
হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং ত্বকে র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। অনেক ক্ষেত্রে বড়দের মধ্যে উপসর্গ শিশুদের তুলনায় আরও তীব্র হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ এবং জ্বর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, নিউমোনিয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মস্তিষ্কের প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, র্যাশ দেখা দেওয়ার আগেও আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, টিকা গ্রহণ, মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই হামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা।
সিএ/এমআর


