কিলিয়ান এমবাপ্পের প্রতিভা নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। তবে এখন তার ক্যারিয়ারের আলোচনায় যুক্ত হচ্ছে আরও বড় একটি বিষয়—রেকর্ড এবং ইতিহাসে নিজের অবস্থান শক্ত করা। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই তিনি এমন কিছু অর্জনের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন, যা অনেক কিংবদন্তির পুরো ক্যারিয়ারেও অধরা থেকে গেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ফ্রান্স অধিনায়ক। জোড়া গোল করে শুধু দলকে এগিয়ে নেননি, ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাতেও যোগ করেছেন নতুন কয়েকটি অধ্যায়।
ম্যাচের প্রথম গোলেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় নতুন অবস্থানে পৌঁছে যান এমবাপ্পে। এরপর দ্বিতীয় গোল করে একসঙ্গে ছাড়িয়ে যান তিন ফুটবল কিংবদন্তিকে—অলিভিয়ের জিরু, জা ফঁতে এবং লিওনেল মেসিকে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসের গোলদাতাদের তালিকায় এতদিন ১৩ গোল নিয়ে এগিয়ে ছিলেন ফরাসি কিংবদন্তি জা ফঁতে এবং আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৪-তে উন্নীত করেন এমবাপ্পে। ফলে দুজনকে পেছনে ফেলে নতুন অবস্থানে উঠে আসেন তিনি।
এই তালিকায় বর্তমানে তার সমান গোল রয়েছে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারেরও। তবে সামনে এখনও রয়েছেন আরও দুই বড় নাম—ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও এবং জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা।
বিশ্বকাপের রেকর্ডের পাশাপাশি জাতীয় দলের ইতিহাসেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। এতদিন ৫৭ গোল নিয়ে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে ছিলেন অলিভিয়ের জিরু। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে সেই রেকর্ডও নিজের করে নেন বর্তমান অধিনায়ক।
এখন ফ্রান্সের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮। বয়স ও ধারাবাহিকতা বিবেচনায় সামনে এই সংখ্যাকে আরও অনেক দূরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার।
বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, গোল করার ক্ষমতা এবং রেকর্ড ভাঙার গতি—সব মিলিয়ে এমবাপ্পে এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তাকে শুধু বর্তমান সময়ের সেরা নয়, ভবিষ্যতের অন্যতম কিংবদন্তি হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিএ/এমই


