দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে নরওয়ে। আর সেই প্রত্যাবর্তন আরও স্মরণীয় করে তুলেছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে দলকে বড় জয় এনে দিয়েছেন এই স্ট্রাইকার।
বোস্টনের ম্যাচে ইরাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শক্তিশালী সূচনা করেছে নরওয়ে। জোড়া গোল করেন হালান্ড, একটি গোল করেন লিও স্কিরি অস্টিগার্ড এবং শেষ দিকে একটি আত্মঘাতী গোল আসে ইরাকের পক্ষ থেকে। ইরাকের একমাত্র গোলটি করেন আয়মান হুসেইন।
বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই গোলের দেখা পান হালান্ড। ২৯ মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। গোলটির মাধ্যমে আরেকটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানেও নাম লেখান এই ফরোয়ার্ড। ক্লাব পর্যায়ে যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলোর অভিষেক ম্যাচে গোল করেছিলেন, তেমনি বিশ্বকাপ অভিষেকেও গোল করে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন।
এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগ, বুন্দেসলিগা ও প্রিমিয়ার লিগের অভিষেক ম্যাচেও গোল করেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপেও সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হলো।
প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারও গোল করেন হালান্ড। ৪৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুল থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন। ইরাকের ব্যাক পাস থেকে গোলরক্ষকের ক্লিয়ারেন্সে বল হালান্ডের পায়ে লেগে জালে জড়ায়।
যদিও বিরতির আগে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল ইরাক। ৩৯ মিনিটে আয়মান হুসেইন গোল করে ব্যবধান কমান। যোগ করা সময়েও কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও সমতায় ফিরতে পারেনি দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় নরওয়ে। ৭৬ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের কর্নার থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন লিও স্কিরি অস্টিগার্ড।
ম্যাচের শেষ দিকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন হালান্ড। ৮৩ মিনিটে গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলেও গোল করতে পারেননি তিনি। তবে তাতেও জয় নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়নি।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে নিজেদের জালে বল পাঠিয়ে ইরাকের হতাশা আরও বাড়ান আয়মান হুসেইন। সেই আত্মঘাতী গোলেই ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে।
দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপে ফিরে এমন পারফরম্যান্স নরওয়ের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। আর হালান্ডও দেখিয়ে দিলেন, বড় মঞ্চেও তার গোল করার ধার অব্যাহত রয়েছে।
সিএ/এমই


