দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সিরাজুল আল সামস (৭) হত্যাকাণ্ডে তাঁর চাচাতো ভাই আমানুর ইসলাম ওরফে আমান (২১) জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানান।
নিহত সামস উপজেলার আমরুলবাড়ি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মমিনুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় আফতাবগঞ্জ চাইল্ড কেয়ার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের একমাত্র সন্তান সামসের মরদেহ উদ্ধারকালে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সামসের চাচাতো ভাই আমানুর ইসলাম, তার বাবা মজিদুল ইসলাম, মা আনোয়ারা বেগম এবং স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মফিজুল ইসলামকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমানুর ইসলাম হত্যার কথা স্বীকার করলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আমানুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বাড়ির চুলা থেকে একটি রক্তমাখা লাঠি এবং বাড়ির পূর্বদিকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি ভুট্টাখেত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, সামস তার বাবা-মার একমাত্র ছেলে ছিল। তাদের পরিবারের সঙ্গে তার চাচা মজিদুল ইসলামের পরিবারের পারিবারিক বিরোধ ছিল। সামস একমাত্র সন্তান হওয়ায় তাকে সরিয়ে দিলে সম্পত্তি পাওয়া যাবে—এমন ধারণা থেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তিনি বলেন, শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) রাতে তারাবিহ নামাজের আগে আমানুর সামসকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে বাড়ি থেকে পশ্চিমে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে তাকে নেওয়া হয়। সেখানে মুখ ও নাক চেপে শ্বাসরোধ করা হয়। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ মাদ্রাসা মাঠসংলগ্ন একটি ভুট্টাখেতে ফেলে রাখা হয়।
সামসের মা শাম্মী আক্তার বলেন, শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) রাতে তাঁকে (শাম্মী আক্তার) ব্যস্ত রাখতে আমানুর হাতে করে একটি পুরোনো পাঞ্জাবি সেলাই করার জন্য তাদের বাড়িতে আসে। পরে সেটি তাঁকে দিয়ে সেলাই করিয়ে নেয়। এরপর সামসকে নিয়ে নিজেদের বাড়ি যেতে বের হয় আমানুর। কিছুক্ষণ পর অপর একটি পাঞ্জাবি সেলাই করার জন্য আবারও আসে আমানুর। এ সময় শাম্মী আক্তার তাঁর ছেলের কথা জিজ্ঞেস করলে জানায় সামস তার (আমানুর) ছোট বোনের সঙ্গে আছে। এতে তাঁর সন্দেহ হলে শাম্মী আক্তার আমানুরের বাড়িতে যান এবং সামসের খোঁজ করেন। এ সময় আমানুরের মা আনোয়ারা বেগম জানান, সামস তাদের বাড়িতে আসেনি। পরে প্রতিবেশীদের নিয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মাদ্রাসার পাশে ভুট্টাখেতে রক্তাক্ত অবস্থায় সামসের মরদেহ পাওয়া যায়।
নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা বলেন, সিরাজুল আল সামস হত্যার ঘটনায় তার বাবা মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে আমানুরের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন–চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএ/এমই


