রমজান মাসে খাদ্যাভ্যাস ও খাবারের সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় উপবাস থাকার কারণে অন্ত্র বা গাট মাইক্রোবায়োমের ওপর এর প্রভাব পড়ে। ইফতার ও সাহ্রিতে ভারী খাবারের চাপ উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন করে তোলে। এই অবস্থায় প্রোবায়োটিক বা জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্র সুরক্ষায় কার্যকর সমাধান হতে পারে।
রমজানে দিনের বেলায় উপবাসের ফলে পরিপাকতন্ত্র একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। তবে ইফতারে অতিরিক্ত শর্করা, ভাজাপোড়া ও চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অন্ত্রকে শরীরের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক বলা হয়। এই অন্ত্র সুস্থ রাখতে প্রোবায়োটিকের ভূমিকা গবেষণায় প্রমাণিত।
দীর্ঘ উপবাসের পর ইফতারে হঠাৎ ভারী খাবার গ্রহণে অন্ত্রের দেয়ালে চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রোবায়োটিক অন্ত্রের দেয়ালে একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা ক্ষতিকর টক্সিন রক্তে মিশতে বাধা দেয়। পাশাপাশি প্রোবায়োটিক শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড উৎপাদনে সহায়তা করে, যা কোলনের কোষে শক্তি জোগায় এবং প্রদাহ কমায়।
রমজানে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা কমাতেও প্রোবায়োটিক কার্যকর। আন্তর্জাতিক জার্নাল নিউট্রিয়েন্টস–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, রমজানের সময় নিয়মিত প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণকারীদের মধ্যে পরিপাকজনিত সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।
পুষ্টিবিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারের শুরুতে চিনি ছাড়া টক দই, লাচ্ছি বা ঘোল প্রোবায়োটিকের ভালো উৎস হতে পারে। আবার সাহ্রির শেষ দিকে ফল ও টক দইয়ের মিশ্রণ বা পান্তাভাত অন্ত্র শান্ত রাখতে সহায়ক। পাশাপাশি প্রোবায়োটিকের কার্যকারিতা বাড়াতে রসুন, পেঁয়াজ, কলা ও ডালের মতো প্রিবায়োটিক খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিএ/এমআর


