রমজান মানেই আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংযমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির সময়। তবে এই সাধনার পূর্ণতা তখনই আসে, যখন শরীর ও মন সুস্থ থাকে। বাস্তবে দেখা যায়, রমজান এলেই ইফতার ও সাহ্রিতে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রবণতা বাড়ে, যা সুস্থতার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন বজায় রাখতে পারলে রমজান হতে পারে সারা বছরের সুস্থতার ভিত্তি।
সারা বছর পরিপাকতন্ত্র বিরতিহীনভাবে কাজ করে। রমজানে দিনের বেলায় পানাহার থেকে বিরত থাকার ফলে পাকস্থলী ও যকৃৎ কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং শরীর থেকে জমে থাকা টক্সিন বের হয়ে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ডিটক্সিফিকেশন বলা হয়। তবে ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও সাহ্রিতে চর্বিযুক্ত খাবার খেলে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
সারা দিন পানি না খাওয়ার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই ইফতার শুরু করা উচিত পর্যাপ্ত পানি ও কয়েকটি খেজুর দিয়ে। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ও পটাশিয়াম দ্রুত শক্তি জোগায়। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবতের বদলে ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ইসবগুলের ভুসি গ্রহণ করা ভালো।
অনেকেই সাহ্রি বাদ দিয়ে রোজা রাখেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সাহ্রিতে এমন খাবার নির্বাচন করা উচিত, যা ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি দেয়। লাল চালের ভাত, ডাল, সবজি এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এ ক্ষেত্রে উপযোগী। পাশাপাশি ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করা জরুরি।
রমজানের সুস্থতা কেবল খাদ্যাভ্যাসে সীমাবদ্ধ নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক প্রশান্তি ও রাগ নিয়ন্ত্রণও এর অংশ। পরিমিতিবোধ বজায় রেখে জীবনযাপন করলে রমজান শেষে পাওয়া যেতে পারে রোগমুক্ত শরীর ও সতেজ মন।
সিএ/এমআর


