রমজান মাসে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বাড়তি সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সঠিক পরিকল্পনা, ওষুধের ডোজের সমন্বয় এবং সচেতন থাকলে অধিকাংশ ডায়াবেটিক রোগী নিরাপদে রোজা রাখতে পারেন। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোজা না রাখাও প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, যাঁদের ঘন ঘন লো সুগারের সমস্যা হয়, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে না, টাইপ-১ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণহীন, অন্তঃসত্ত্বা ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার বা হৃদ্রোগের জটিলতা রয়েছে কিংবা যাঁরা বয়স্ক ও দুর্বল—তাঁরা উচ্চঝুঁকিতে থাকেন। এ ধরনের রোগীদের রোজা রাখার আগে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
রোজার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধ বা ইনসুলিনের সময় ও ডোজ নির্ধারণ করা জরুরি। দিনে একবার খাওয়ার ওষুধ ইফতার বা সাহ্রিতে নেওয়া যেতে পারে, দিনে দুইবারের ওষুধ সাহ্রি ও ইফতারে ভাগ করে নিতে হয়। ইনসুলিনের ক্ষেত্রেও সময় ও মাত্রা পরিবর্তন করা লাগতে পারে, তবে নিজে নিজে ডোজ পরিবর্তন করা বিপজ্জনক।
রমজানে নিয়মিত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করা দরকার। সকাল ১০টা, বেলা ২টা, ইফতারের আগে ও ইফতারের দুই ঘণ্টা পর শর্করা মাপার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাথা ঘোরা, ঘাম, শরীর কাঁপা বা দুর্বল লাগলেও পরীক্ষা করা জরুরি। রক্তে শর্করা খুব কমে গেলে বা অত্যধিক বেড়ে গেলে রোজা ভাঙতে হবে।
সাহ্রিতে পর্যাপ্ত পানি, আঁশযুক্ত খাবার, ডাল, শাকসবজি ও পরিমিত প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইফতারে অল্প পরিমাণ খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙা ভালো। ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মিষ্টি ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।
সিএ/এমআর


