ভাঙা ফুলদানি সামনে রেখে শিশুর দৃঢ় কণ্ঠে বলা—আমি করিনি—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন অনেক বাবা-মা। তখন প্রশ্ন জাগে, শিশুরা কেন মিথ্যা বলে? তারা কি ইচ্ছাকৃতভাবে সত্য আড়াল করে, নাকি এর পেছনে রয়েছে ভয়, কল্পনা কিংবা মনোযোগ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মিথ্যা বলা সবসময় নেতিবাচক আচরণের লক্ষণ নয়। বরং বয়সভিত্তিক মানসিক বিকাশ, পারিবারিক পরিবেশ ও প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
শাস্তির ভয় শিশুদের মিথ্যা বলার অন্যতম কারণ। কোনো ভুলের পর যদি শিশু মনে করে সত্য বললে বকা বা শাস্তি পেতে হবে, তাহলে সে নিরাপত্তার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে। কঠোর শাস্তিমূলক পরিবেশ শিশুদের সত্য বলার আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
ছোট বয়সে কল্পনা ও বাস্তবের সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না। চার-পাঁচ বছরের শিশু যখন কল্পনার গল্প বলে, সেটি অনেক সময় ইচ্ছাকৃত মিথ্যা নয়; বরং তার কল্পনাশক্তির স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। প্রি-স্কুল বয়সে এমন আচরণ মানসিক বিকাশেরই অংশ।
মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টাও মিথ্যার একটি কারণ। পরিবারে নতুন ভাইবোন আসা বা বাবা-মা অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকলে শিশু নিজেকে অবহেলিত মনে করতে পারে। তখন নজরে আসার জন্য সে গল্প বানিয়ে বলতে পারে বা সত্যকে বাড়িয়ে উপস্থাপন করে।
আত্মরক্ষার প্রবণতাও শিশুদের মিথ্যার দিকে ঠেলে দেয়। স্কুলে খারাপ ফল, বন্ধুর সঙ্গে সমস্যা কিংবা কোনো ভুল ঢাকতে গিয়ে সে সত্য লুকাতে পারে। নিজের সক্ষমতা নিয়ে অনিরাপদ বোধ করলে এমন আচরণ দেখা দেয়।
এ অবস্থায় বাবা-মায়ের করণীয় হলো শান্ত থাকা। শিশুকে মিথ্যাবাদী বলে দাগিয়ে না দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা দরকার, সে কেন এমন বলছে। সত্য বললে প্রশংসা করা এবং ভুলের ক্ষেত্রে শাস্তির ভয় না দেখিয়ে দায়িত্ববোধ শেখানো শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়ক।
সিএ/এমআর


