বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, সৌরজগতে নতুনভাবে শনাক্ত হওয়া একটি গ্রহাণু ২০৩২ সালের ডিসেম্বরে চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে পারে। এই সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর দিকে আসতে পারে, যা মারাত্মক উল্কাবৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, এটি মহাকাশবিজ্ঞানের জন্য বিরল গবেষণার সুযোগও নিয়ে আসবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ ওয়াইআর৪ নামের এই গ্রহাণুর প্রস্থ প্রায় ৬০ মিটার। বর্তমানে হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর চাঁদে আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রায় ৪ শতাংশ। যদিও সম্ভাবনা তুলনামূলক কম, তবু সংঘর্ষ ঘটলে এর শক্তি এতটাই বেশি হবে যে তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রহাণুর সংঘর্ষে মুক্ত শক্তি হবে মাঝারি তাপ-পরমাণু বিস্ফোরণের সমতুল্য। এটি হবে আধুনিক যুগে চাঁদে পর্যবেক্ষিত সবচেয়ে শক্তিশালী সংঘর্ষ। সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় এক কিলোমিটার চওড়া গর্ত তৈরি হতে পারে এবং চাঁদকম্পন বা ‘মুনকোয়েক’ দেখা দিতে পারে। এই প্রক্রিয়া চাঁদের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য দেবে।
সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ মহাশূন্যে ছিটকে পড়বে। এর কিছু অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে তীব্র উল্কাবৃষ্টি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা ও আরব উপদ্বীপ অঞ্চলে দৃশ্যটি চোখে পড়বে। সিমুলেশন অনুযায়ী, এক ঘণ্টায় লাখ লাখ থেকে কোটি উল্কা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, মহাকাশ থেকে পতিত ধ্বংসাবশেষের কারণে পৃথিবীতে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া উপগ্রহগুলোর জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি হতে পারে, যা ‘কেসলার সিনড্রোম’ নামে পরিচিত। এটি বৈশ্বিক যোগাযোগ ও নেভিগেশন ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতে পারে।
সিএ/এমআর


