প্রকাশক ঐক্য সংগঠন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ ২০ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ঈদের পরে আয়োজন করার জন্য। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশকদের সংগঠন চিঠিতে উল্লেখ করেছে, দেশের প্রকাশনাশিল্প বর্তমানে সংকটে এবং মেলাটি সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া উচিত।
প্রকাশক ঐক্য চিঠিতে উল্লেখ করেছে, মেলা বর্জন নয়, বরং পবিত্র রমজান ও নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি পিছিয়ে ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হোক। চিঠিতে বলা হয়েছে, “যৌক্তিক এই দাবিগুলো উপেক্ষা করে প্রকাশকদের একটি ব্যর্থ মেলার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যে মেলায় দেশের সামনের সারির প্রায় সব প্রকাশকসহ তিন শতাধিক মূলধারার প্রকাশক অংশ নিতে অপারগ।”
চিঠিতে প্রকাশকরা তারেক রহমানকে আশ্বাস চেয়েছেন, “সামনেই আপনি সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। একটি নতুন সরকারের যাত্রা শুরুতে আমরা চাই না একুশের চেতনার এই মেলাটি কোনোভাবে ব্যর্থ বা বিতর্কিত হোক। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সুচিন্তিত একটি নির্দেশই পারে ধ্বংসের হাত থেকে এই শিল্পকে বাঁচাতে।”
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশক সমাজ তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। প্রকাশকরা আশা প্রকাশ করেছেন, তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র প্রকাশকদের দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করবে না, বরং প্রমাণ করবে নতুন সরকার কতটা জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
প্রকাশক ঐক্য উল্লেখ করেছে, দেশের প্রকাশনাশিল্প প্রায় দেড় বছর ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস ছাপাখানাগুলো ব্যস্ত থাকায় সৃজনশীল বই উৎপাদনের কাজ প্রায় বন্ধ ছিল। কাগজের দাম আকাশচুম্বী এবং আনুষঙ্গিক সংকটের কারণে প্রকাশকেরা দিশাহারা। বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান মাসে বইমেলা আয়োজনের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। রোজার কারণে শিক্ষার্থীরা মেলায় অংশ নিতে পারবে না, ফলে মেলা পাঠকশূন্য ও নিষ্প্রাণ হবে। প্রকাশকরা মনে করছেন, এই সময়ে অংশগ্রহণ করা ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র সমান।
চিঠিতে দেশের সর্বস্তরের ১৪ জন প্রকাশকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন: মেছবাহউদ্দীন আহমদ (আহমদ পাবলিশিং হাউজ), এ কে নাসির আহমেদ (কাকলী), মাজহারুল ইসলাম (অন্যপ্রকাশ), মনিরুল হক (অনন্যা), সৈয়দ জাকির হোসাইন (অ্যাডর্ন পাবলিকেশন), জসীম উদ্দিন (কথাপ্রকাশ), মোহামম্মদ নাজিম উদ্দিন (বাতিঘর প্রকাশনী), মো. মোবারক হোসেন (পাণ্ডুলিপি সমন্বয়ক, প্রথমা প্রকাশন), মো. গফুর হোসেন (রিদম), ইকবাল হোসেন সানু (লাবনী), দীপঙ্কর দাশ (বাতিঘর), মো. জহির দীপ্তি (ইতি প্রকাশন, সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬), মাহরুখ মহিউদ্দীন (ইউপিএল: সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬) এবং মাহাবুর রাহমান (আদর্শ; সদস্য, অমর একুশে বইমেলা কমিটি ২০২৬)।
সিএ/এমআর


