বিশ্বকাপের মঞ্চে বহু স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে একটি অর্জন এতদিন তার ক্যারিয়ারে অধরাই ছিল—বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল ২০২৬ বিশ্বকাপেই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত তিন গোল করে দলকে বড় জয় এনে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ক্যারিয়ারের ৬১তম হ্যাটট্রিক পেলেও বিশ্বকাপে এটিই ছিল মেসির প্রথম। নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে এই অর্জনকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছেন তিনি। তার তিন গোলেই ৩-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা এবং শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে শক্ত বার্তা দিয়েছে।
ম্যাচের শুরুতেই নাটকীয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম কয়েক মিনিটেই দুই দলই বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে কোনো গোলই গণনা হয়নি। ষষ্ঠ মিনিটে মেসির গোল বাতিল হওয়ার পর কিছুক্ষণ পর একই পরিণতি হয় আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ড ফারেস চাইবির ক্ষেত্রেও।
তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। ১৭ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে গোলের খাতা খোলেন মেসি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান বল থামানোর চেষ্টা করলেও শটের গতি ও নিখুঁততায় সফল হতে পারেননি।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় আলজেরিয়া। প্রথমার্ধের শেষদিকে সমতায় ফেরার সুযোগও তৈরি হয়েছিল তাদের। তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের গুরুত্বপূর্ণ সেভে ব্যবধান আর বাড়েনি কিংবা কমেওনি। ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ৫৪ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজ সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেননি। তবে ৬০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। দূরপাল্লার শট থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল তুলে নেন তিনি।
এরপর হ্যাটট্রিকের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়নি। ৭৬ মিনিটে ডি-বক্সের কাছাকাছি থেকে আরেকটি নিখুঁত শটে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। পুরো স্টেডিয়াম তখন আর্জেন্টাইন অধিনায়কের নামেই মুখর।
এই তিন গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে উন্নীত করেন মেসি। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি।
এ ম্যাচে আরেকটি ব্যক্তিগত মাইলফলকও স্পর্শ করেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০ ম্যাচ খেলা ইতিহাসের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান তিনি। একই সঙ্গে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করেন।
আর্জেন্টিনার জন্য এটি শুধু একটি জয় নয়, বরং শিরোপা ধরে রাখার অভিযানের আত্মবিশ্বাসী সূচনা। আর মেসির জন্য এটি ইতিহাসের নতুন একটি অধ্যায়।
সিএ/এমই


