২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন এক ইতিহাস গড়েছে মরক্কো। ব্রাজিলের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এমন একটি শুরুর একাদশ নিয়ে মাঠে নামে দলটি, যেখানে কোনো খেলোয়াড়েরই জন্ম মরক্কোর ভূখণ্ডে নয়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো জাতীয় দল পুরো শুরুর একাদশে দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের নিয়ে ম্যাচ শুরু করল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে জাতীয় পরিচয়, অভিবাসন ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে ঘটনাটি।
মরক্কোর হয়ে গোলপোস্টে ছিলেন কানাডার মন্ট্রিলে জন্ম নেওয়া ইয়াসিন বুনু। রক্ষণভাগে জায়গা পাওয়া নুসাইর মাজরাউই জন্মেছেন নেদারল্যান্ডসে, ইসা দিয়প ফ্রান্সে এবং শাদি রিয়াদ ও আশরাফ হাকিমির জন্ম স্পেনে।
মধ্যমাঠেও ছিল বহুজাতিক উপস্থিতি। নিল এল আয়নাউই ও আয়ুব বুয়াদ্দির জন্ম ফ্রান্সে। আক্রমণভাগে থাকা শেমসদিন তালবি ও বিলাল এল খান্নুসের জন্ম বেলজিয়ামে, সামির এল মুরাবেত ফ্রান্সে এবং ইসমাইল সাইবারির জন্ম স্পেনে।
যদিও জন্মস্থান ভিন্ন, তাদের সবার পারিবারিক শিকড় মরক্কোতে। সেই পরিচয় ও সংযোগ থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোর জার্সি বেছে নিয়েছেন তারা। এদের মধ্যে কয়েকজন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বয়সভিত্তিক দলেও খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
মরক্কোর ফুটবলে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অবদান নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপে বেড়ে ওঠা মরোক্কান বংশোদ্ভূত ফুটবলাররা জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। তবে বিশ্বকাপের মতো সবচেয়ে বড় আসরে পুরো শুরুর একাদশই দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত হওয়া এক নতুন দৃষ্টান্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু ফুটবল নয়, বৈশ্বিক অভিবাসন ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের ভূমিকারও প্রতিফলন। আধুনিক ফুটবলে জাতীয় পরিচয়ের ধারণা যে ক্রমেই আরও বহুমাত্রিক হচ্ছে, মরক্কোর একাদশ তারই একটি উদাহরণ।
কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে আলোচনায় আসা মরক্কো এবারও নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক শক্তি ধরে রাখতে প্রবাসী প্রতিভার ওপর আস্থা রেখেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে সেই পরিকল্পনারই স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে।
সিএ/এমই


