আধুনিক নগরজীবনে মানুষ দিন দিন ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। একই ভবনে বা একই এলাকায় দীর্ঘ সময় বসবাস করলেও অনেকের সঙ্গে প্রতিবেশীর সম্পর্ক সীমিত থাকে কেবল আনুষ্ঠানিক পরিচয়ে। অথচ ইসলাম প্রতিবেশীর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
ইসলামি শিক্ষায় প্রতিবেশীর অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, একজন মানুষের ঈমানের মানদণ্ড নির্ধারণে তার প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কসম, সে মুমিন নয়! আল্লাহর কসম, সে মুমিন নয়! জিজ্ঞেস করা হলো, “কে হে আল্লাহর রাসুল?” তিনি বললেন, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না।’
ইসলাম ক্ষুধার্ত প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়েও কঠোর গুরুত্ব আরোপ করেছে। নিজের প্রয়োজন পূরণ হলেও পাশের মানুষ অভাবে থাকলে তা একজন মুসলমানের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার পাশেই তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।’
পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির জন্য উপহার বা খাবার বিনিময়েরও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট সৌজন্যমূলক আচরণ প্রতিবেশীদের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সহায়ক বলে ইসলামি শিক্ষায় উল্লেখ রয়েছে।
প্রতিবেশীর গোপনীয়তা রক্ষা করাও ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধান করা কিংবা তার ত্রুটি প্রচার করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে সব প্রতিবেশীর অধিকার সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলাম ছোটখাটো প্রয়োজনেও সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে। অসুস্থতার সময় খোঁজ নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং শোকের সময় সহমর্মিতা প্রকাশ করাকে উত্তম আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ ছাড়া শব্দদূষণ, গালিগালাজ কিংবা এমন কোনো আচরণ যা প্রতিবেশীর স্বস্তি নষ্ট করে, তা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।’
প্রতিবেশীর কেউ মারা গেলে তার জানাজায় অংশগ্রহণ এবং শোকগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিও ইসলাম উৎসাহিত করেছে। এতে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
প্রতিবেশীর মর্যাদা সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনাগুলোর একটি হলো, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে এত বেশি অসিয়ত করতেন যে আমার মনে হলো তিনি হয়তো তাকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামি এই নীতিমালা অনুসরণ করা হলে সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও মানবিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে একাকিত্ব ও সামাজিক দূরত্বও কমে আসবে।
সিএ/এমআর


