হজ ও ওমরার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে সাতবার যাতায়াত বা ‘সায়ি’ করা। ইসলামের ইতিহাসে হজরত হাজেরা (আ.)-এর ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভরসার স্মৃতিকে ধারণ করেই এই আমল পালন করা হয়।
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর স্ত্রী হাজেরা (আ.) ও শিশু সন্তান ইসমাইল (আ.)-কে জনমানবহীন মরুভূমিতে রেখে যান। কিছু সময় পর খাবার ও পানি ফুরিয়ে গেলে তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ে শিশু ইসমাইল (আ.)।
সন্তানের জন্য পানির সন্ধানে ব্যাকুল হয়ে হাজেরা (আ.) সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়াদৌড়ি করেন। তাঁর এই চেষ্টার পর আল্লাহ জমজম কূপের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা করেন।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই ঘটনা মানুষের জন্য তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর নির্ভরতার পাশাপাশি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা বহন করে।
কোরআনুল কারিমে সাফা ও মারওয়াকে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই হজ ও ওমরার সময় এই দুই পাহাড়ের মাঝে সায়ি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচিত হয়।
হাদিসেও সায়ির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও সায়ি করেছেন এবং সাহাবিদের তা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
সায়ির নিয়ম অনুযায়ী, সাফা পাহাড় থেকে শুরু করে মারওয়ায় গিয়ে একটি চক্কর সম্পন্ন হয়। এভাবে সাতবার যাতায়াত করতে হয় এবং শেষ চক্করটি শেষ হয় মারওয়ায়।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, পুরুষদের জন্য সাফা ও মারওয়ার মাঝের নির্দিষ্ট অংশে দ্রুত চলা সুন্নাত। তবে নারীরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, সায়ি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি মানুষের জীবনে চেষ্টা, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি আস্থার বাস্তব শিক্ষা দেয়।
বর্তমানে সাফা-মারওয়ার পথ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ও আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন হলেও ইবাদতের মূল চেতনা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আলেমরা।
তাঁদের মতে, সায়ির সময় ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণে অতিরিক্ত ব্যস্ত না হয়ে ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হওয়া উচিত।
সিএ/এমআর


