জিনস প্যান্টের পকেটের কোনায় থাকা ছোট ছোট ধাতব বোতাম অনেকেই শুধু নকশার অংশ মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এই বোতামগুলোর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক কারণ। এগুলোকে বলা হয় ‘রিভেট’, যা মূলত প্যান্টকে আরও টেকসই করতে ব্যবহৃত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনসের জন্ম হয়েছিল মূলত খনি ও রেলপথে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য। আঠারো শতকের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে সোনার খনি ও রেললাইন নির্মাণকাজ বাড়তে থাকলে শ্রমিকদের এমন পোশাকের প্রয়োজন হয়, যা সহজে ছিঁড়ে যাবে না।
এই চাহিদা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী লিভাই স্ট্রাউস শক্ত কাপড় দিয়ে বিশেষ ধরনের প্যান্ট তৈরি শুরু করেন। তিনি ফ্রান্সের নিম শহরের ‘সার্জ দে নিম’ নামের শক্ত কাপড় ব্যবহার করেন। পরে এই নাম থেকেই ‘ডেনিম’ শব্দটির উৎপত্তি হয়।
অন্যদিকে ‘জিনস’ নামটিরও আলাদা ইতিহাস রয়েছে। ইতালির জেনোয়া শহরে ব্যবহৃত নীল কাপড় থেকে ‘ব্লু জিনস’ নামটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
শুরুর দিকে এসব প্যান্ট ছিল ঢিলেঢালা এবং মূলত নীল রঙের। বিশেষ ধরনের ইন্ডিগো রং ব্যবহারের কারণে কাপড় দীর্ঘদিন মজবুত থাকত।
তবে শ্রমিকদের বড় সমস্যা ছিল পকেটের কোণা ও সেলাই দ্রুত ছিঁড়ে যাওয়া। ১৮৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডার দরজি জ্যাকব ডেভিস এই সমস্যার সমাধান বের করেন। তিনি প্যান্টের দুর্বল অংশে ছোট তামার রিভেট লাগানো শুরু করেন।
এতে পকেটের কোণা অনেক বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে ওঠে। শ্রমিকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে যায় এই নতুন ডিজাইনের প্যান্ট।
পরে ডেভিস তাঁর উদ্ভাবনের পেটেন্ট করতে চাইলেও প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় লিভাই স্ট্রাউসের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেন। ১৮৭৩ সালে তাঁরা যৌথভাবে রিভেটযুক্ত ডেনিম প্যান্টের পেটেন্ট পান।
১৮৯০ সাল পর্যন্ত এই নকশার একচ্ছত্র অধিকার ছিল লিভাই স্ট্রাউস অ্যান্ড কো.–র হাতে। পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও জিনসে রিভেট ব্যবহার শুরু করে।
বর্তমানে ভারী কাজের জন্য রিভেটের প্রয়োজন আগের মতো না থাকলেও এটি এখন জিনসের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। অনেকেই রিভেট ছাড়া জিনসকে অসম্পূর্ণ মনে করেন।
সূত্র: ইয়াহু লাইফস্টাইল, ফাইভ পকেট জিনস, সিএনএন, বিজনেস ইনসাইডার
সিএ/এমআর


