বিশ্বজুড়ে মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, একাকীত্ব ও সামাজিক চাপ মানুষের মানসিক স্থিতি নষ্ট করছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান যেখানে কাউন্সেলিং ও থেরাপির পরামর্শ দিচ্ছে, সেখানে ইসলামও বহু আগে থেকেই মানসিক প্রশান্তির জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়ে এসেছে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মানুষের মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে কৃতজ্ঞতাবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যখন নিজের প্রাপ্তির চেয়ে অপ্রাপ্তিকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তখন হতাশা বাড়তে থাকে। ইসলাম মানুষকে আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে উৎসাহিত করেছে।
বর্তমান মুহূর্তে বেঁচে থাকার বিষয়টিও ইসলামে গুরুত্ব পেয়েছে। অতীতের ব্যর্থতা কিংবা ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা মানুষের বিষণ্নতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়। তাই প্রতিদিনকে নতুনভাবে গ্রহণ করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
ধৈর্য ও নামাজকে মানসিক শক্তির অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইসলামে। বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ ও প্রার্থনার মাধ্যমে আত্মিক প্রশান্তি লাভের কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যের জীবন ও সাফল্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে গিয়ে অনেকেই মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। ইসলাম মানুষকে নিজের অবস্থার প্রতি সন্তুষ্ট থাকতে এবং নিচের স্তরের মানুষের দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা শেখার পরামর্শ দেয়।
আল্লাহর স্মরণ বা জিকিরকে ইসলামে অন্তরের প্রশান্তির মাধ্যম বলা হয়েছে। ধর্মীয় অনুশীলন মানুষের উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করেন অনেকে।
এ ছাড়া একাকীত্ব দূর করতে সামাজিক যোগাযোগ ও জামাতে নামাজ পড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানুষের সঙ্গে মেলামেশা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রাখে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
ইসলামে ক্ষমা করার মানসিকতা এবং মানুষের প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ঘৃণা ও সন্দেহ মানসিক চাপ বাড়ায়, আর ক্ষমা মানুষকে স্বস্তি দেয়।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোও মানসিক প্রশান্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়। সবুজ পরিবেশ, আকাশ কিংবা প্রকৃতি নিয়ে চিন্তা মানুষকে মানসিকভাবে শান্ত করতে পারে।
সবশেষে তাকদির বা ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। চেষ্টা করার পর ফলাফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা মানুষকে হতাশা ও ট্রমা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামের এসব জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা অনুসরণ করলে মানুষের মানসিক অস্থিরতা কমতে পারে এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
সিএ/এমআর


