দেশের সীমান্ত ও বিভিন্ন এলাকায় গত এপ্রিল মাসজুড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সংস্থাটির দাবি, অভিযানে মোট ১৮৩ কোটি ২০ লাখ ৫১ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চোরাচালান ও অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা থেকে ২৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকেও আটক করা হয়েছে আরও ৫৪৫ জনকে।
জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩ কেজি ৭১৩ গ্রাম স্বর্ণ, ১৫৫ গ্রাম হীরা, ১৭ হাজার ৫১৯টি শাড়ি, ৩ হাজার ৩৮৩টি থ্রিপিস, শার্টপিস, চাদর ও কম্বল এবং ৫ হাজার ১১৬টি তৈরি পোশাক।
এ ছাড়া ৪ হাজার ৫৫৩ মিটার থান কাপড়, ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৪টি কসমেটিকস সামগ্রী, ৩২ লাখ ১২ হাজার ৩৫টি আতশবাজি, ৩ হাজার ৭৬২ ঘনফুট কাঠ এবং ৩ হাজার ৭৮৭ কেজি চা পাতা উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবির তথ্যমতে, অভিযানে ৭ হাজার ৪১০ কেজি সুপারি, ৭ হাজার ৬২০ কেজি কয়লা, ৩ হাজার ৫৮৩ ঘনফুট পাথর, ৩৩৭টি মোবাইল ফোন, ৩ হাজার ১৬৯টি মোবাইল ডিসপ্লে এবং ১৪ হাজার ৯৯টি মোবাইল যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া চিকিৎসাসামগ্রী, চশমা, জিরা, চিনি, খাদ্যপণ্য, রসুন, সার, কীটনাশক, চকলেটসহ বিপুল পরিমাণ অন্যান্য পণ্যও উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ৯৫৭টি গরু ও মহিষসহ বিভিন্ন যানবাহনও জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিদেশি ও দেশীয় পিস্তল, ম্যাগাজিন, গোলাবারুদ, মাইন, মর্টার শেল, হাতবোমা ও ককটেল।
একই সঙ্গে গত মাসে সীমান্ত এলাকায় বড় পরিমাণ মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৬ পিস ইয়াবা, ৪৪২ গ্রাম হেরোইন, ২ হাজার ৪২৩ বোতল ফেনসিডিল, ৭ হাজার ৩৫৩ বোতল বিদেশি মদ এবং ১ হাজার ১৪৯ কেজি গাঁজা।
এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ইনজেকশন, সিরাপ, বিড়ি-সিগারেট এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজিবির তথ্যমতে, মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৮৬ জন বাংলাদেশি, ২ জন ভারতীয় এবং ৫৪৫ জন মিয়ানমারের নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


