বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের অন্যতম বড় সমস্যা হলো হাঁপানি। প্রতি বছর লাখো মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, এটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বিশ্ব হাঁপানি দিবস উপলক্ষে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন সরকার জানিয়েছেন, হাঁপানি মূলত শ্বাসনালির দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ। বিশ্বে বর্তমানে ২৬ কোটির বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। প্রতিবছর প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের মৃত্যু হয় হাঁপানিজনিত জটিলতায়।
তিনি জানান, এসব মৃত্যুর ৮০ শতাংশের বেশি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে। বাংলাদেশেও প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ মানুষ হাঁপানিতে ভুগছেন। বিশেষ করে ১ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, হাঁপানির প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বুকে চাপ অনুভব করা এবং শ্বাস নেওয়ার সময় বাঁশির মতো শব্দ হওয়া। অনেক সময় বিশেষ অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে উপসর্গ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরের ধুলাবালি, মাইট, ফুলের রেণু, পশুপাখির লোম, ছত্রাক ও দূষিত পরিবেশ হাঁপানির অন্যতম কারণ। এ ছাড়া ধোঁয়া, ঠান্ডা আবহাওয়া কিংবা ভাইরাসজনিত সংক্রমণও উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে।
ডা. জাকির হোসেন সরকার জানান, হাঁপানি নির্ণয়ের জন্য বুকের এক্স-রে, স্পাইরোমেট্রি, রক্তে অ্যালার্জির মাত্রা এবং শ্বাস পরীক্ষার মতো কিছু পরীক্ষা করানো হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হাঁপানির চিকিৎসায় সাধারণত দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। একটি উপশমকারী ওষুধ, যা তাৎক্ষণিক শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে। অন্যটি প্রতিরোধমূলক ওষুধ, যা দীর্ঘমেয়াদে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
চিকিৎসকদের মতে, রোগীদের শুধু ওষুধ খেলেই হবে না, বরং জীবনযাপনের ধরনেও পরিবর্তন আনতে হবে। ধুলাবালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলা, নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ইনহেলার ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বিশ্ব হাঁপানি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘হাঁপানি রোগীদের প্রদাহবিরোধী ইনহেলারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা—একটি জরুরি প্রয়োজন’। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সচেতনতা বাড়লে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে হাঁপানিজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


