মানুষের বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে আইকিউ বা ইন্টেলিজেন্স কোশেন্টকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলছে, জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বা ইকিউ আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। কর্মক্ষেত্র, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক যোগাযোগ এবং মানসিক সুস্থতায় ইকিউর প্রভাব ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ অত্যন্ত মেধাবী হলেও যদি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন বা অন্যের অনুভূতি বুঝতে ব্যর্থ হন, তাহলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে পারেন। বিপরীতে, তুলনামূলক কম আইকিউ থাকা সত্ত্বেও উন্নত ইকিউ একজন মানুষকে সফল ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ আইকিউ এবং নিম্ন ইকিউয়ের সমন্বয় অনেক সময় নেতিবাচক আচরণ ও সামাজিক সমস্যার কারণ হতে পারে। ফলে কেবল জ্ঞান নয়, আবেগকে সঠিকভাবে বোঝা ও পরিচালনা করার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইকিউ সম্পূর্ণ জন্মগত বিষয় নয়। পারিবারিক পরিবেশ, সামাজিক অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত চর্চার মাধ্যমে এটি বিকশিত করা সম্ভব। শৈশবে যেসব শিশুর আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তারা বড় হয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ ও বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে।
আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা উন্নত করার জন্য নিজের অনুভূতি শনাক্ত করা, লুকানো আবেগ চিনতে শেখা, সহানুভূতির চর্চা করা, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বদলে কিছুটা সময় নেওয়া এবং নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার মতো অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সচেতন চর্চার মাধ্যমে যেকোনো বয়সে ইকিউ বৃদ্ধি করা সম্ভব। আর উন্নত ইকিউ শুধু সম্পর্ককে মজবুত করে না, বরং ব্যক্তির মানসিক স্থিতিশীলতা ও জীবনের সামগ্রিক সন্তুষ্টিও বাড়ায়।
সিএ/এমআর


