অন্দরসজ্জার পাশাপাশি ঘরের পরিবেশ সুন্দর রাখতে গাছের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে অনেকেরই অভিযোগ, ঘরের গাছ অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। অথচ সঠিক পরিচর্যা পেলে কিছু গাছ কয়েক বছর নয়, বরং কয়েক দশক পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।
ঘরের ভেতরে রাখা গাছ শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, অনেক ক্ষেত্রে মানসিক প্রশান্তি ও সতেজ পরিবেশ তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। তবে সব গাছের স্থায়িত্ব এক রকম নয়। কিছু গাছ রয়েছে যেগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি সহনশীল এবং দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছের প্রজাতি সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী আলো, পানি ও পরিচর্যা নিশ্চিত করলেই দীর্ঘ সময় ধরে গাছ সুস্থ রাখা সম্ভব।
ক্রোটন
ক্রোটন জনপ্রিয় পাতাবাহার গাছগুলোর একটি। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ক্রোটন সহজেই পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত আলো পেলে এবং নিয়মিত যত্ন নিলে এই গাছ বহু বছর বেঁচে থাকতে পারে।
এর পুরু পাতা তুলনামূলকভাবে শক্ত হওয়ায় কম পানি বা সাময়িক প্রতিকূল পরিবেশও কিছুটা সহ্য করতে পারে। ঘরের বারান্দা বা আলোযুক্ত স্থানে এটি ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
হলিডে ক্যাকটাস
থ্যাংকসগিভিং, ক্রিসমাস ও ইস্টার ক্যাকটাস একই ধরনের উদ্ভিদ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। সঠিক আর্দ্রতা ও পরিমিত পানি পেলে এই গাছ দীর্ঘদিন টিকে থাকে।
সহজে কাটিংয়ের মাধ্যমে নতুন গাছ তৈরি করা যায় বলে একটি গাছ থেকেই কয়েক প্রজন্ম ধরে নতুন চারা পাওয়া সম্ভব।
জেড প্লান্ট
জেড প্লান্টকে সবচেয়ে দীর্ঘজীবী ঘরোয়া গাছগুলোর একটি বলা হয়। এই গাছ সরাসরি আলো পছন্দ করে এবং কম পানিতেও টিকে থাকতে পারে।
সঠিক পরিচর্যায় অনেক জেড প্লান্ট কয়েক দশক পর্যন্ত বেঁচে থাকে। তাই ঘরের জন্য এটি একটি জনপ্রিয় পছন্দ।
নাইট ব্লুমিং সেরিয়াস
নাইট ব্লুমিং সেরিয়াস এক ধরনের ক্যাকটাস, যা রাতের বেলায় ফুল ফোটানোর জন্য পরিচিত। পর্যাপ্ত আলো ও প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পেলে এটি বহু বছর বেঁচে থাকতে পারে।
অনেকে এটিকে নিশিপদ্ম, নিশিরানি বা নাইটকুইন নামেও চেনে।
স্পাইডার প্ল্যান্ট
স্পাইডার প্ল্যান্ট ঘরের ভেতরের সবচেয়ে পরিচিত গাছগুলোর একটি। এটি খুবই সহনশীল হওয়ায় নতুন গাছপ্রেমীদের জন্যও উপযোগী।
প্রতিকূল পরিবেশেও এটি টিকে থাকতে পারে এবং ছোট ছোট নতুন চারা তৈরি করে। ফলে মূল গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও এর বংশধারা সহজেই ধরে রাখা যায়।
দীর্ঘদিন গাছ বাঁচিয়ে রাখার উপায়
গাছের সঠিক পরিচর্যার জন্য প্রথমেই এর বৈজ্ঞানিক নাম ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ সম্পর্কে জানা জরুরি।
অতিরিক্ত পানি যেমন ক্ষতিকর, তেমনি প্রয়োজনের তুলনায় কম পানিও গাছের ক্ষতি করতে পারে। তাই গাছের ধরন অনুযায়ী পানি দিতে হবে।
প্রতিটি গাছের আলোর চাহিদা আলাদা। তাই কোনো গাছ সরাসরি রোদে ভালো বাড়ে, আবার কোনোটি ছায়াযুক্ত পরিবেশ পছন্দ করে।
সময়মতো কাটিং বা চারা তৈরি করলে একটি গাছের নতুন প্রজন্ম দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
সিএ/এমআর


