জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহ থেকে ভেঙে পড়া বিশালাকার বরফখণ্ড বা হিমশৈলের সংখ্যা গত কয়েক দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, এই পরিবর্তন শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়াচ্ছে না, বরং গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রেও তৈরি করছে বড় ধরনের পরিবর্তন।
প্রকৃতি বিষয়ক সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এক গবেষণায় টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ডেনমার্কের গবেষকেরা জানিয়েছেন, হিমবাহের পরিবর্তন এবং সাগরে হিমশৈলের প্রবাহ বৃদ্ধির মধ্যে গভীর সমুদ্রের তলদেশে নতুন ধরনের কঠিন আবাসস্থল তৈরির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষক শফাকাত আব্বাস খান বলেন, গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলে যাওয়ার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। তবে এর প্রভাব শুধু পানির উচ্চতা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং হিমবাহ থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যেও এর প্রভাব পড়ছে।
হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সাগরে ভেসে যাওয়া বড় বড় হিমশৈল নিজেদের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর, নুড়ি ও পলি বহন করে নিয়ে যায়। পরে বরফ গলে গেলে এসব ভারী উপাদান সমুদ্রের তলদেশে জমা হয়।
গবেষকেরা বলছেন, গভীর সমুদ্রের নরম কাদা ও বালুর ওপর জমা হওয়া এসব পাথর সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য নতুন ধরনের কঠিন আবাসস্থল তৈরি করছে। এর ফলে সেখানে নতুন এক ধরনের বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠছে।
গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং সাভালবার্ডের মধ্যবর্তী ফ্রাম স্ট্রেইট এলাকায় ২০০০ সালের পর থেকে হিমশৈলের সংখ্যা প্রায় চার গুণ বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই শতাব্দীর শুরু থেকে প্রতি দশকে গ্রিনল্যান্ড ও রাশিয়ান আর্কটিক অঞ্চল থেকে উৎপন্ন বড় আকারের হিমশৈলের সংখ্যা প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।
তবে এই পরিবর্তনের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলার ফলে নতুন ও সংক্ষিপ্ত নৌপথ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু হিমশৈলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এসব পথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সংঘর্ষের ঝুঁকিও বাড়ছে।
আলফ্রেড ওয়েগেনার ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা জানিয়েছেন, অনেক হিমশৈলের নিচের অংশে গলনপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব বরফখণ্ডের ভেতরে থাকা পলি ও পাথরের কারণে সমুদ্রের পানির রঙেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
সূত্র: এএফপি
সিএ/এমআর


