কোরবানির ঈদে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মাংসের বিভিন্ন পদ উপভোগ করা বাঙালি সংস্কৃতিরই একটি অংশ। তবে কয়েকদিন ধরে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের কারণে অনেকেরই ওজন বেড়ে যায় এবং পেটের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ জমতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের পর শরীরকে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। নিয়মিত জীবনযাপন ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ওজন ও ভুঁড়ি কমানো সম্ভব।
প্রথমেই পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ফলে হজম প্রক্রিয়ার ওপর চাপ বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত পানি শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে সহায়তা করে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা কমাতে ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন অন্তত আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করা উপকারী।
খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। ঈদের পরও নিয়মিত অতিরিক্ত মাংস খাওয়া অব্যাহত থাকলে মেদ কমানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ডাল, ফলমূল ও সালাদের পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
নিয়মিত হাঁটা ওজন নিয়ন্ত্রণের অন্যতম সহজ উপায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি খরচ হয় এবং ধীরে ধীরে চর্বি কমতে শুরু করে।
এছাড়া কোমল পানীয়, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এসব খাবারে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি থাকায় দ্রুত ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা পর্যাপ্ত ঘুমের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং অস্বাভাবিক ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ খাবারও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। ডিম, মাছ, ডাল, ওটস, ফলমূল এবং শাকসবজি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমায়।
খাদ্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা করারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ, সাইক্লিং কিংবা হালকা কার্ডিও ব্যায়াম শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
রাতের খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। ভারী খাবারের পরিবর্তে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নিলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমার আশঙ্কা কমে যায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ফল পাওয়ার চেয়ে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সিএ/এমআর


