আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রুটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তবে সাধারণত আমরা পরিশোধিত গমের আটা দিয়ে তৈরি রুটিই বেশি খেয়ে থাকি। এর বাইরে আরও অনেক ধরনের শস্য দিয়ে তৈরি রুটি রয়েছে, যেগুলোর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা ভিন্ন ভিন্ন। গম, বাজরা, জোয়ার, রাগি, ভুট্টা এবং মাল্টিগ্রেইন রুটি—প্রতিটি ধরনের রুটিই শরীরের জন্য আলাদা উপকার বয়ে আনে।
হোল গ্রেইন গমের রুটিতে গমের তুষ ও অঙ্কুর অক্ষুণ্ন থাকে, যা জটিল কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে এবং দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়। এতে থাকা আঁশ হজমে সহায়তা করে এবং ভিটামিন বি বিপাকক্রিয়া উন্নত করে। পাশাপাশি আয়রন ও জিংক শরীরের রক্ত গঠন ও রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
বাজরার রুটি ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ, যা হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। এর আঁশ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং আয়রন ও ফোলেট রক্তস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ধীরে শর্করা নিঃসরণের কারণে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে।
জোয়ারের রুটি সহজপাচ্য এবং প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেনমুক্ত। এতে থাকা পলিফেনল শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং আঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপকারী। কপার ও ফসফরাস হাড়ের গঠনে সহায়তা করে।
রাগি আটার রুটি ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ, যা হাড় ও দাঁতের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা আয়রন ও অ্যামিনো অ্যাসিড শরীর গঠন ও কোষ মেরামতে সহায়তা করে। এছাড়া এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
মাল্টিগ্রেইন রুটিতে একাধিক শস্যের সমন্বয় থাকায় এতে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে এবং শরীরকে সুষম পুষ্টি দেয়।
মক্কি রুটি ভুট্টার আটা দিয়ে তৈরি এবং প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেনমুক্ত। এতে থাকা আঁশ হজমে সহায়ক এবং লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন চোখের জন্য উপকারী। ভিটামিন বি৬ ও ফোলেট শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


