বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে। কারও ক্ষেত্রে হাঁচি বা কাশি দিলে কিংবা পেটে চাপ পড়লে কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব বেরিয়ে আসে। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই এ সমস্যা দেখা গেলেও বৃদ্ধ বয়সে এর প্রবণতা বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান প্রসবের পর এই সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, যা সামাজিক ও মানসিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।
চিকিৎসকদের মতে, মূত্রনালি সঠিক সময়ে সংকুচিত না হওয়া বা অতিরিক্ত প্রস্রাবে মূত্রাশয় পরিপূর্ণ হয়ে গেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বেরিয়ে আসতে পারে। মূত্রাশয় ও মূত্রনালি ঘিরে থাকা পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লেও এই সমস্যা দেখা দেয়। নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মদান, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি কিংবা পেটের নিচের পেশি শিথিল হয়ে যাওয়ার কারণেও এমন হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থির অস্ত্রোপচারের পর এ সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে প্রস্রাব করার পরও মূত্রনালি পুরোপুরি খালি হয় না। ফলে অল্প অল্প করে ঝরতে থাকে বা বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ, মূত্রনালির ক্যানসার, প্রোস্টেটের সমস্যা, পারকিনসন ডিজিজ কিংবা স্ট্রোকের কারণেও প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ভর করে সমস্যার মূল কারণের ওপর। বয়সজনিত কারণে মূত্রাশয় ও মূত্রনালির পেশির শক্তি পুরোপুরি ফিরে না এলে জীবনযাপনে পরিবর্তন এবং ফিজিওথেরাপি কার্যকর হতে পারে। নির্দিষ্ট ব্যায়াম, অভ্যাসের পরিবর্তন এবং কিছু ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে উপশম সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা পেলভিক ফ্লোর মাসল এক্সারসাইজ, কেগেল এক্সারসাইজসহ নিয়মিত ব্যায়ামের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ব্লাডার ট্রেনিং, মানসিক চাপ কমানো এবং অতিরিক্ত চা-কফি পরিহার করাও উপকারী। এসব অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে প্রস্রাব ধরে রাখার ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে।
সিএ/এমআর


