ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলায় ১২৭৯টি দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামেলি কার্ড প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
তথ্য অনুযায়ী, তেঘরিয়া ইউনিয়নে ৫০৯টি এবং রোহিতপুর ইউনিয়নে ৭৭০টি পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ফ্যামেলি কার্ডের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রায় ২৭০০-এর বেশি পরিবারের ওপর জরিপ চালিয়ে প্রাথমিকভাবে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র হিসেবে ১২৭৯টি পরিবারকে বাছাই করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ছবি এবং আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য সহায়তা পান কি না সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
নীতিমালা অনুযায়ী, ৪৭টি প্রশ্নের ভিত্তিতে ১ হাজার নম্বরের মধ্যে ৭৭৭ থেকে ৮১৪ নম্বর পাওয়া পরিবারগুলোকে দরিদ্র ও অতি দরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব তথ্য পুনরায় যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রথম মাসের ২৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
এদিকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তেঘরিয়া ইউনিয়নের লতা রানী বলেন, “আমি বিধবা, দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। ফ্যামেলি কার্ডের টাকা পেলে অনেক উপকার হবে।”
অন্য একজন উপকারভোগী জোছরা বলেন, প্রথমে তিনি বিষয়টি বিশ্বাস করেননি, তবে কার্ড পাওয়ার পর তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শিবলীজ্জামান বলেন, “যারা সত্যিকার অর্থে দরিদ্র, তাদেরই এই সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করা হচ্ছে। বাদ পড়া পরিবারগুলো পরবর্তী সময়ে সুযোগ পাবে।”
সিএ/এমই


