জীবনের বিভিন্ন সংকট, দুঃখ-কষ্ট বা বিপদের মুখে অনেক মানুষ হতাশ হয়ে নিজের মৃত্যু কামনা করে থাকেন। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এমন মনোভাব নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলাম মানুষকে ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা এবং রহমতের আশা করতে শিক্ষা দেয়।
ইসলামি শরিয়তের আলোকে নিজের মৃত্যু কামনা করা নিষিদ্ধ। কারণ মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের আমল করার সুযোগ শেষ হয়ে যায়। জীবিত থাকা অবস্থাতেই মানুষ নেক কাজের মাধ্যমে নিজের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারে এবং ভুল-ত্রুটি থেকে ফিরে এসে তওবা করার সুযোগ পায়।
আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করবে না আর মৃত্যুর আগে সেজন্য দোয়াও করবে না। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। মুমিনের জীবিত থাকা কল্যাণ বা নেকিই বৃদ্ধি করে।” (সহিহ মুসলিম)
আরেক হাদিসে আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে যদি সৎকর্মশীল লোক হয়, তবে বেঁচে থাকলে তার নেকি বাড়বে। আর যদি অন্যায়কারী হয়, তাহলে হয়ত সে তাওবা করার সুযোগ পাবে।” (সহিহ বুখারি)
একই বিষয়ে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষকে বিপদের সময় মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করেছেন। পাশাপাশি তিনি এমন পরিস্থিতিতে একটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন।
اللهم أَحْيِنِي ما كانت الحياةُ خيرًا لي ، وتَوَفَّنِي إذا كانت الوفاةُ خيرًا لي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহয়িনি মা কানাতিল-হায়াতু খাইরান লি ওয়া তাওয়াফফানি ইযা কানাতিল-ওয়াফাতু খাইরান লি।
অর্থ: “হে আল্লাহ! যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয়, ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন, যখন আমার জন্য মৃত্যুই কল্যাণকর হয় তখন আমাকে মৃত্যু দিন।” (সহিহ বুখারি)
ইসলামি শিক্ষায় মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য, আল্লাহর প্রতি আস্থা এবং বিপদের সময় তাঁর সাহায্য কামনা করা। তাই হতাশা থেকে মৃত্যু কামনা না করে আল্লাহর রহমত ও উত্তম পরিণতির জন্য দোয়া করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


