বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাড়ায় বিশেষ ছাড়ের নতুন সুবিধা চালু করেছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীরা ট্রেন ভ্রমণে আর্থিক সুবিধা পাবেন। নতুন এ ব্যবস্থা গত ২৫ মে থেকে কার্যকর হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যাত্রীরা টিকিটের ভিত্তিমূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। যাত্রীর বয়স জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে।
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই সুবিধা অনলাইন ও স্টেশন কাউন্টার—উভয় মাধ্যমেই প্রযোজ্য হবে। তবে ছাড় পাওয়ার জন্য যাত্রীকে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং সিস্টেমে নিবন্ধিত থাকতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন প্রবীণ যাত্রী প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুইবার এই ছাড় সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। যদি কোনো ছাড়প্রাপ্ত টিকিট ফেরত দেওয়া হয়, তাহলে তা সাপ্তাহিক হিসাব থেকে বাদ যাবে এবং একই সপ্তাহে আবারও ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
সহযাত্রী নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো প্রবীণ যাত্রীর সঙ্গে থাকা সাধারণ সহযাত্রীর জন্য নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে। তবে সহযাত্রীও যদি ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী হন, তাহলে প্রতি বুকিংয়ে একজন অতিরিক্ত প্রবীণ যাত্রীও ছাড় সুবিধা পাবেন। এজন্য তাকে নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে পৃথকভাবে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।
অন্যদিকে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্রধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্যও নতুন সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনের সুলভ ও শোভন শ্রেণিতে তারা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী ৫০ শতাংশ ভাড়া রেয়াত পাবেন। পাশাপাশি সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা এসি শ্রেণির টিকিটে ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।
তবে সার্ভিস চার্জ, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং অন্যান্য নির্ধারিত ফি আগের নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে প্রতিবন্ধী যাত্রীরা শুধুমাত্র স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট ক্রয়ের সময় এই সুবিধা নিতে পারবেন। তবে ভবিষ্যতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার আওতায়ও এ সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সমাজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী আরও বেশি সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


