ওয়ার্কশপে কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদের জন্য আরও ১৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কশপের মালিকপক্ষ। সোমবার আপিল বিভাগে ওই পে-অর্ডারসহ আবেদন উপস্থাপন করা হলে আদালত তা গ্রহণ করেন। এর ফলে চারটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে নাঈমের নামে মোট ৩০ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে। ওই বছরের ডিসেম্বরে নাঈমের বাবা মো. নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায়ে নাঈমের নামে ১৫ লাখ টাকা করে ১০ বছর মেয়াদি দুটি ফিক্সড ডিপোজিট করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শিশুটির পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা তার ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ওয়ার্কশপের মালিক ইয়াকুব হোসেন আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ সেই আবেদন খারিজ করে দিলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় মালিকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আবেদন করেন নাঈমের বাবা। এরপর রায় বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ওয়ার্কশপ মালিক।
শুনানিতে নাঈমের পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক। মালিকপক্ষের হয়ে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার।
শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক সাংবাদিকদের জানান, সর্বশেষ ধাপে ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকার দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ টাকা আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর আগে আরও দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে একই পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। ফলে নাঈমের নামে মোট ৩০ লাখ টাকা জমা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নাঈমের শিক্ষাব্যয়ের জন্য প্রতি মাসে সাত হাজার টাকা করে এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ৪২ হাজার টাকার একটি পে-অর্ডারও আদালতে দেওয়া হয়েছে।
আপিল বিভাগ মালিকপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন এবং বিষয়টি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য মুলতবি রেখেছেন।
২০২০ সালের ১ নভেম্বর প্রকাশিত একটি সংবাদে নাঈমের দুর্ঘটনার বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামের বাসিন্দা নাঈমের পরিবার কর্মসূত্রে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বসবাস করছিল। করোনাকালে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তাকে স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে কাজে পাঠানো হয়।
২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভৈরবের নূর ইঞ্জিনিয়ারিং নামের ওই ওয়ার্কশপে কাজ করার সময় ড্রিল মেশিনে নাঈমের ডান হাত আটকে যায়। পরে চিকিৎসকেরা তার জীবন রক্ষায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে ডান হাত বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হন। এরপর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।
সিএ/এমআর


