গরমের সময় শিশুদের মধ্যে ঘামাচির সমস্যা খুবই সাধারণ। ঘাম জমে ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয়। যদিও এটি সাধারণত গুরুতর কোনো রোগ নয়, তবে চুলকানি, জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তির কারণে শিশুরা বেশ কষ্ট পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চললে ঘামাচি অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
শিশুবিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের ঘর্মগ্রন্থি পূর্ণবয়স্ক মানুষের মতো পরিপূর্ণভাবে গঠিত হয় না। ফলে ঘাম তৈরি হলেও তা অনেক সময় ত্বকের বাইরে বের হতে পারে না। বিশেষ করে ছোট শিশুদের শরীরে ঘাম জমে থাকলে এবং তা দ্রুত পরিষ্কার না করলে ঘামাচির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বড় হতে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে খেলাধুলার সময় শরীরে ধুলাবালি ও ময়লা জমে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ কারণেও শৈশবে ঘামাচির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমের সময় শিশুদের হালকা, ঢিলেঢালা ও সুতি কাপড় পরানো উচিত। আঁটসাঁট কিংবা কৃত্রিম তন্তুর পোশাক এড়িয়ে চলতে হবে, যাতে শরীরে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে। প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় ডায়াপার ব্যবহার না করাই ভালো। ডায়াপার ব্যবহার করতে হলে এমনটি বেছে নেওয়া উচিত, যাতে প্লাস্টিকের স্তর কম থাকে।
শিশু ঘেমে গেলে দ্রুত শরীর মুছে দিতে হবে। বিশেষ করে বগল, কুঁচকি ও আঙুলের ফাঁকের মতো শরীরের ভাঁজে ঘাম বেশি জমে। অতিরিক্ত ঘাম হলে পোশাক পরিবর্তন করানো এবং সম্ভব হলে গোসল করানো উপকারী। গোসল সম্ভব না হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলার পর শরীর পরিষ্কার করা, শিশুর উপযোগী সাবান ব্যবহার করা এবং ত্বকে ভারী তেল, পেট্রোলিয়াম জেলি বা ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ করে দিতে পারে এমন প্রসাধনী ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ভেজা ত্বকে পাউডার ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
যদি ঘামাচি হয়ে যায়, তাহলে আক্রান্ত স্থানে নরম কাপড়ে মোড়ানো বরফ কিছুক্ষণ ধরে রাখা যেতে পারে। মৃদু ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করালেও শিশুর আরাম হয়। প্রয়োজনে শিশুদের জন্য উপযোগী ঘামাচির পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে আক্রান্ত স্থান চুলকানো থেকে বিরত রাখতে হবে। নখ দিয়ে চুলকালে ত্বকে ক্ষত তৈরি হয়ে জীবাণু সংক্রমণ ও পুঁজ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। রাসায়নিকযুক্ত লোশন বা ফার্মেসি থেকে ইচ্ছেমতো কেনা মলম ব্যবহার না করারও পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। কারণ, অনেক মলমে স্টেরয়েড থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুর ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অতিরিক্ত চুলকানি, তীব্র জ্বালাপোড়া, পুঁজ জমা বা জ্বর দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: ডা. তাসনুভা খান
সিএ/এমআর


