রাতের বেলায় অনেকেই ঘরের এক কোণে ছোট আলো জ্বালিয়ে রাখেন। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা অন্ধকারে অস্বস্তি বোধ করেন এমন মানুষের জন্য জিরো ওয়াট বাল্ব দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় একটি সমাধান। তবে এই বাল্ব নিয়ে একটি প্রচলিত ভুল ধারণা এখনো রয়েছে—অনেকে মনে করেন জিরো ওয়াট বাল্ব বিদ্যুৎ খরচ করে না। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বৈদ্যুতিক বাতি আলো উৎপন্ন করতে গেলে তাকে অবশ্যই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। ফলে ‘জিরো ওয়াট’ নামটি থাকলেও এর বিদ্যুৎ খরচ শূন্য নয়। মূলত অতীতে ব্যবহৃত কিছু অ্যানালগ মিটার খুব কম মাত্রার বিদ্যুৎ ব্যবহার সঠিকভাবে হিসাব করতে পারত না। সেই কারণেই কম বিদ্যুৎ খরচকারী এসব বাতির নামের সঙ্গে ‘জিরো ওয়াট’ শব্দটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বর্তমানে ব্যবহৃত অধিকাংশ জিরো ওয়াট বাল্বের প্রকৃত বিদ্যুৎ ব্যবহার সাধারণত ১০ থেকে ১৫ ওয়াটের মধ্যে হয়ে থাকে। যদি একটি বাল্ব প্রতিদিন গড়ে ১০ ঘণ্টা জ্বালানো হয়, তাহলে দৈনিক বিদ্যুৎ খরচ দাঁড়ায় প্রায় ০.১০ থেকে ০.১৫ ইউনিট।
এই হিসাবে মাসে ৩০ দিন ব্যবহার করলে মোট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে প্রায় ৩ থেকে ৪.৫ ইউনিট। বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি মূল্য ১০ টাকা ধরা হলে মাসিক অতিরিক্ত খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ খরচ তুলনামূলক কম হলেও তা একেবারেই শূন্য নয়।
বিদ্যুৎ খরচের হিসাব বর্তমানে আরও নির্ভুলভাবে ধরা পড়ে। কারণ অধিকাংশ বাসাবাড়িতে এখন ডিজিটাল মিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব মিটার খুব অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারও রেকর্ড করতে সক্ষম। ফলে কম ক্ষমতার বাল্ব ব্যবহার করলেও তার খরচ সরাসরি বিদ্যুৎ বিলে যুক্ত হয়।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করলে আধুনিক এলইডি নাইট লাইট আরও কার্যকর বিকল্প হতে পারে। বাজারে এমন অনেক এলইডি নাইট ল্যাম্প পাওয়া যায়, যেগুলো মাত্র ০.৫ থেকে ১ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় আলো সরবরাহ করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পরও বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম থাকে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ছোট ছোট অভ্যাসগত পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আলোকসজ্জা নির্বাচন করলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


