দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে মাগুরা-শ্রীপুর জেলা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ এখন বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কজুড়ে অসংখ্য গর্ত, ফাটল এবং ভাঙাচোরা অংশের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও ক্রোকোডাইল ক্র্যাক তৈরি হয়েছে, যা যান চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে। অনেক ক্ষেত্রে চালকদের গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চালাতে হচ্ছে। এতে যাত্রার সময় বাড়ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সড়ক ব্যবহারকারীদের মতে, প্রতিনিয়ত ঝাঁকুনির কারণে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সিএনজি, মাহেন্দ্র ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সিএনজি চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন এই সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে গাড়ির স্প্রিং, শক অ্যাবজরভারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদেরও অনেক কষ্ট হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”
মাহেন্দ্রচালক শহিদুল শেখ বলেন, “গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। অনেক জায়গায় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। বাধ্য হয়ে আমরা নিজেদের টাকায় কিছু গর্তে ইট ও খোয়া ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করেছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম মোল্যা বলেন, “এটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা। দ্রুত সংস্কার না করলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”
সড়ক ব্যবহারকারী সালমা খাতুনের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে যাতায়াতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। এতে শিক্ষার্থী ও রোগীদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
এ বিষয়ে মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. ইলিয়াস ফারুক জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হলে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে স্বাভাবিক ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।
সিএ/এমআর


