স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট ও পুষ্টিকর পানীয় গ্রহণ করেন। তবে ঘরে থাকা সাধারণ দুটি উপাদান—দুধ ও মধুর সংমিশ্রণও শরীরের জন্য নানা উপকার বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।
দুধকে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সুষম খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। অন্যদিকে মধুতে থাকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
একাধিক স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে পারে এবং কিছু সাধারণ শারীরিক সমস্যার উপশমেও সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে মেলাটোনিন উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, যা ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত। মধুর গ্লুকোজ এই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।
এ ছাড়া মধুর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি বা মৌসুমি সংক্রমণের উপসর্গ কমাতে সহায়ক হতে পারে। গরম দুধ শরীরে আরাম এনে ক্লান্তি দূর করতেও ভূমিকা রাখে।
পরিপাকতন্ত্রের জন্যও এ মিশ্রণ উপকারী বলে মনে করা হয়। মধুর প্রিবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, আর গরম দুধ হজম প্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমসংক্রান্ত কিছু সমস্যার ঝুঁকি কমতে পারে।
হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও দুধ ও মধুর সংমিশ্রণ উপকারী বলে ধারণা করা হয়। দুধের ক্যালসিয়াম এবং মধুর কিছু উপাদান শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করতে পারে, যা হাড়কে শক্তিশালী রাখতে ভূমিকা রাখে।
পুষ্টিবিদদের মতে, এ পানীয় শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে। এর ইতিবাচক প্রভাব ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত গরম দুধে মধু মেশানো উচিত নয়। এতে মধুর কিছু উপকারী এনজাইম ও গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই দুধ ফুটিয়ে কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর তাতে মধু মিশিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সিএ/এমআর


