ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত সফলতা হলো ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ অর্জন করা। পবিত্র কোরআনে এমন কিছু গুণাবলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা একজন মুমিনকে আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং জান্নাতের উপযুক্ত বান্দা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
কোরআনের বিভিন্ন সুরায় বর্ণিত এসব বৈশিষ্ট্য শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করারও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
প্রথমত, মুমিনরা নামাজে বিনয় ও একাগ্রতা বজায় রাখে। তারা ইবাদতের সময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেয় এবং আন্তরিকতার সঙ্গে নামাজ আদায় করে।
দ্বিতীয়ত, তারা অনর্থক ও অসার কথাবার্তা থেকে দূরে থাকে। সময় ও কথার মূল্য উপলব্ধি করে উপকারী কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখে।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো নিয়মিত জাকাত ও দান-সদকা প্রদান। তারা শুধু নিজের কল্যাণ নয়, সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের প্রতিও দায়িত্বশীল থাকে।
চতুর্থত, তারা নিজেদের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করে এবং অবৈধ সম্পর্ক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে।
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য হিসেবে মুমিনরা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান হয়। বিশ্বাসযোগ্যতা তাদের অন্যতম পরিচয়।
ষষ্ঠত, তারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখে। অপচয় ও কৃপণতা উভয়ই পরিহার করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে।
সপ্তম বৈশিষ্ট্য হলো রাতের নির্জনে ইবাদত করা। তারা সুযোগ পেলে তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে।
অষ্টমত, তারা বিনয়ী ও নম্র স্বভাবের হয়। অহংকার ও ঔদ্ধত্য থেকে দূরে থেকে মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে।
নবম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তারা মিথ্যা সাক্ষ্য, প্রতারণা ও অন্যায়ের সমর্থন থেকে বিরত থাকে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে তারা দায়িত্ব মনে করে।
দশম বৈশিষ্ট্য হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণ কামনা করা। তারা এমন পরিবার ও সন্তান কামনা করে, যারা নেক আমল করবে এবং সমাজে কল্যাণ বয়ে আনবে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এসব গুণ একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে যেমন সমৃদ্ধ করে, তেমনি সমাজে ন্যায়, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাতেও ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


