বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর রিটেইল খাতের একটি উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশের বিটুবি রিটেইল-টেক প্ল্যাটফর্ম প্রিয়শপ এবার জাতিসংঘের সদরদপ্তরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন (এসটিআই) ফোরামে অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার উন্নয়নে নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরে।
এ আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রিয়শপের প্রতিষ্ঠাতা আশিকুল আলম খান। ফোরামে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা, মাইক্রোসফটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা, ডিজিটাল কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
ফোরামে মূল আলোচনার বিষয় ছিল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট এবং তা সমাধানে প্রযুক্তির ভূমিকা। আলোচনায় উঠে আসে, বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ভোক্তাবাজার হিসেবে বাংলাদেশে লাখো ক্ষুদ্র খুচরা ব্যবসায়ী প্রতিদিন মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
তবে এসব ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পুঁজি, ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা, অগোছালো সরবরাহব্যবস্থা এবং দুর্বল ব্যবসায়িক কাঠামোর মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রিয়শপ জানিয়েছে, তারা বর্তমানে দুই লাখের বেশি মুদি দোকানিকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের আওতায় সেবা প্রদান করছে।
সহজ ঋণ সুবিধা, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ, লজিস্টিকস অবকাঠামো, রিটেইল ইন্টেলিজেন্স, ডিজিটাল কমার্স টুলস এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহারকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের দাবি, এসব উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৪৯০ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে পরিবেশ দূষণ কমানোর পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন অর্জনের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের ফোরামে অংশ নিয়ে আশিকুল আলম খান বলেন, “আমরা বাংলাদেশ থেকে যে সমস্যার সমাধান শুরু করেছিলাম, তা আজ বিশ্বের যে কোনো অগ্রগামী দেশ ও তাদের বাজারের জন্য অনুকরণীয় মডেলের মর্যাদা পেয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পুঁজি, পণ্য সরবরাহ বা আধুনিক অবকাঠামোর অভাবে কোনো দোকানিই যেন পিছিয়ে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”
তার মতে, জাতিসংঘের এসটিআই ফোরামে অংশগ্রহণ শুধু উপস্থিতির বিষয় নয়; বরং এটি বিশ্ব উদ্ভাবনের মানচিত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।
সিএ/এমআর


