বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেকের স্মৃতিশক্তি কমতে শুরু করে। আবার অতিরিক্ত কাজের চাপ, মানসিক উদ্বেগ বা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণেও ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ বা আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে ছোটবেলা থেকেই মস্তিষ্কের সুস্থতা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ভারতের নিউরোসার্জন ড. এম নারায়ণ স্বামীর মতে, কয়েকটি সাধারণ অভ্যাস নিয়মিত অনুসরণ করলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে ভালো রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা শারীরিক অনুশীলন করলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এতে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি উন্নত হতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুমও মস্তিষ্কের সুস্থতার অন্যতম শর্ত। প্রতিরাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে পুনরুজ্জীবিত করে। একই সঙ্গে শেখার ক্ষমতা ও তথ্য মনে রাখার দক্ষতাও বাড়াতে সাহায্য করে।
খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গেও মস্তিষ্কের সুস্থতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত তেল, চর্বি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে শাকসবজি, ফলমূল, দানাশস্য এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়।
মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও সামাজিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া, খেলাধুলা কিংবা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে মস্তিষ্ক আরও সক্রিয় থাকে। একাকীত্ব ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মস্তিষ্ককে সচল রাখতে নতুন কিছু শেখার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। নতুন ভাষা শেখা, ধাঁধা সমাধান, সুডোকু খেলা কিংবা নতুন কোনো শখ চর্চা করলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় থাকে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে এসব অভ্যাস অন্তর্ভুক্ত করা গেলে শুধু স্মৃতিশক্তিই নয়, সামগ্রিক মানসিক সক্ষমতাও দীর্ঘদিন ধরে ভালো রাখা সম্ভব।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সিএ/এমআর


