ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনায় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ রাত জেগে খেলা উপভোগ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে ভিন্ন ভিন্ন সময় অঞ্চলে ম্যাচ হওয়ায় বাংলাদেশের দর্শকদের অনেক সময় গভীর রাত বা ভোরে জেগে খেলা দেখতে হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রিয় দলের খেলা দেখতে গিয়ে ঘুমের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আপস করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সুস্থ থাকতে হলে বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মতলেবুর রহমান বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজন আরও বেশি।
কৈশোরে একজন মানুষের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা এবং ৩ থেকে ৫ বছর বয়সীদের ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
ঘুমের ঘাটতি হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, ঝিমুনি, মনোযোগের অভাব ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এমনকি গাড়ি চালানো বা রাস্তা পার হওয়ার মতো কাজেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। পাশাপাশি রাত জাগার সময় অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের প্রবণতা বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলা দেখা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিনোদন মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে খেলার সময় পরিকল্পনা করে নিতে হবে।
সব ম্যাচ দেখার চেষ্টা না করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো বেছে নেওয়া যেতে পারে। খেলার আগে বা পরে ঘুমের সময় সামঞ্জস্য করে নেওয়া দরকার।
যদি দিনের বেলায় সুযোগ থাকে, কিছুটা ঘুমিয়ে নেওয়া যেতে পারে। আর ঘুম না এলেও নিরিবিলি বিশ্রাম নেওয়া শরীরকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
তবে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ঘুমানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ খেলার উত্তেজনায় শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বাড়তে পারে।
খেলা শেষে ঘরের পরিবেশ শান্ত করা, আলো কমিয়ে দেওয়া এবং মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করা ঘুম আসতে সাহায্য করে।
সিএ/এমআর


