ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০টি গ্রামের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ দুই দশক ধরে সড়কটির উন্নয়ন হয়নি, ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ।
সোমবার দুপুরে কছিমউদ্দিন বেপারীর ডাঙ্গী এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী। এতে বিভিন্ন গ্রামের শত শত মানুষ অংশ নেন এবং দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সড়ক দিয়ে কছিমউদ্দিনের ডাঙ্গী, মিনাজউদ্দিন মোল্যার ডাঙ্গী, আনছার মাতুব্বরের ডাঙ্গী, মগরম মাতুব্বরের ডাঙ্গী, নিমাই শেখের পাড়া, দেলোন মল্লিকের ডাঙ্গী এবং বাজু মোল্যার ডাঙ্গীসহ আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন।
এ ছাড়া চরমাধবদিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের বর্তমান অবস্থা এতটাই খারাপ যে জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না। অসুস্থ ব্যক্তিদের কখনো ভ্যানে, আবার কখনো অস্থায়ীভাবে তৈরি কাঠের চৌকিতে করে মূল সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মমিনখার হাট-গোয়ালন্দ আঞ্চলিক সড়কের ইয়াছিন ব্রিজ থেকে দেলোন মল্লিকের ডাঙ্গী জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির বড় অংশ ভাঙাচোরা ও গর্তে ভরা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে এবং বর্ষা মৌসুমে অনেক অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়।
প্রবীণ বাসিন্দা জলিল শেখ আক্ষেপ করে বলেন, ‘রাস্তাডার এমন অবস্থা হইছে যে কওয়ার মতো জায়গ্যাই নাই! এই জায়গাডা যে এম্বায় নইলো, কেউ দেখলো না। কেউ কয় না যে রাস্তাডা সাইর্যা দেই। এহন এই রাস্তাডা জানি পাকা হইয়্যা যায়, সেজন্য এমপির কাছে আবেদন জানাই।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন সরকার আসছে-গেছে কিন্তু আমাদের রাস্তার কোনো উন্নয়ন করেনি। অনেকবার কাজ এলেও তা অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ, আমরা আওয়ামী লীগকে কখনও ভোট না দেওয়ায় আমাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল।’
সৌদি প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক শেখ বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে আমাদের শুধু একটাই কথা বলা হয়েছে, এই এলাকার মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় না, তাই এখানে কিছুই করা যাবে না। যার কারণে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ রাস্তা মনে হয় এটিই।’
তিনি জানান, দীর্ঘদিন নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার, কালভার্ট নির্মাণ এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সহায়তা দিয়ে এলাকাবাসীর চলাচলের ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে এখন সরকারি উদ্যোগ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান। একই সঙ্গে বর্তমান সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের কাছে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনের আহ্বান জানান তারা।
সিএ/এমআর


