ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট মানেই বাড়তি উত্তেজনা, বিতর্ক আর আবেগ। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই উত্তেজনার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায়নি এবার। নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রচলিত সৌজন্য বিনিময় দেখা যায়নি। টসের সময় থেকে শুরু করে ম্যাচ শেষে পর্যন্ত একবারও হাত না মেলানোয় নতুন করে আলোচনায় আসে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সম্পর্ক।
বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ভারত আগে ব্যাট করে বড় সংগ্রহ গড়ে। ২০ ওভারে ভারত তোলে ১৭০ রানের লড়াকু পুঁজি। ইনিংসের ভিত গড়ে দেন ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। বাঁহাতি এই ব্যাটার ৬৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ১৫৪.৫৪ স্ট্রাইক রেটে, যেখানে ছিল ২টি ছক্কা ও ৯টি চার।
তার সঙ্গে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ৩৬ এবং রিচা ঘোষ ৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, যা ভারতের সংগ্রহকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালো করেছিল পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৮ রান যোগ হলেও গুল ফিরোজার আউট হওয়ার পর ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়ে দলটি।
শেষ পর্যন্ত ১০৬ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন ওপেনার মুনিবা আলী।
বল হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দীপ্তি শর্মা। মাত্র ১০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসিয়ে দেন তিনি। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির রেকর্ডও নিজের করে নেন দীপ্তি। তার মোট উইকেট এখন ১৬৬, যা আগের রেকর্ডধারী থাইল্যান্ডের থিপাচা পুত্থাওংয়ের (১৬৫) চেয়ে এক বেশি।
ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও পান তিনি।
পাকিস্তানের হয়ে সাদিয়া ইকবাল ও ফাতিমা সানা দুটি করে উইকেট নিলেও তা দলের হার এড়াতে যথেষ্ট ছিল না।
সব মিলিয়ে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই দাপট দেখিয়ে বিশ্বকাপে শক্ত বার্তা দিয়েছে ভারত, অন্যদিকে পাকিস্তানকে আবারও বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
সিএ/এমই


