ডালাসে উপস্থিত দর্শকদের জন্য ম্যাচটি ছিল পুরোপুরি উপভোগ্য এক ফুটবল সন্ধ্যা। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণ, নাটকীয়তা আর শেষ মুহূর্তের উত্তেজনায় ভরা লড়াইয়ে কোনো দলই খালি হাতে ফেরেনি। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও জাপান ২-২ গোলে ড্র করেছে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দুই দলই জয় দিয়ে শুরু করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
যদিও ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে, প্রথমার্ধে গোলের দেখা মেলেনি। তবে স্কোরলাইন গোলশূন্য থাকলেও মাঠে উত্তেজনার ঘাটতি ছিল না। এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলেছে পুরো সময়জুড়ে।
বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায় এবং গোলের দেখা পাওয়া শুরু হয়। ৫০তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে হেড করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। সেই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল ডাচরা।
কিন্তু ব্যবধান দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারেনি তারা। মাত্র সাত মিনিট পর নিচু শটে জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা।
সমতায় ফেরার পরও ম্যাচে নাটকীয়তা শেষ হয়নি। ৬৩তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে আবারও নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। দ্বিতীয়বার লিড পাওয়ার পর জয় হাতছানি দিতে শুরু করেছিল ডাচদের সামনে।
তবে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় সব হিসাব। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে জাপানের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ হেডে গোল করেন দাইচি কামাদা। ৮৮তম মিনিটের সেই গোলই জাপানকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে এবং নেদারল্যান্ডসের সম্ভাব্য জয় কেড়ে নেয়।
দুইবার পিছিয়ে পড়েও হাল না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত সমতায় ফেরার মধ্য দিয়ে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে জাপান। অন্যদিকে এগিয়ে থেকেও জয় ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেদারল্যান্ডসকে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই দুই দলের এই রোমাঞ্চকর ড্র পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্যও বাড়িয়ে দিয়েছে আগ্রহ।
সিএ/এমই


