ফুটবল বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়াটাই কেপ ভার্দের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। তবে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে উঠে শুধু অংশগ্রহণেই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না আফ্রিকার ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটি। তাদের লক্ষ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং নিজেদের পরিচয় বিশ্ব ফুটবলের সামনে তুলে ধরা।
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে কেপ ভার্দে শিবিরে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই। দলটির কোচ বুবিস্তা শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ভয় নয়, বরং নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বুবিস্তা বলেন, ‘আমরা ভয় ছাড়া খেলব। এই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ শুধু ফুটবলের অর্জন নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও জাতির জন্যও একটি বড় সাফল্য। আমরা বিশ্বকে আমাদের দেশকে দেখাতে চাই।’
তার মতে, বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নামা দলের জন্য বড় একটি পরীক্ষা হলেও সেটি একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ারও সুযোগ।
বুবিস্তা বলেন, ‘আমরা এমন একটি দল যারা চ্যালেঞ্জ ভালোবাসে। বল পায়ে থাকলে সাহসী ফুটবল খেলতে চাই। আমরা শুধু অংশ নিতে আসিনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও এসেছি।’
বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার পথটিও সহজ ছিল না কেপ ভার্দের জন্য। বাছাইপর্বে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলেই মূল আসরে জায়গা নিশ্চিত করে দলটি। সেই অর্জনই দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
স্পেনকে নিয়ে মূল্যায়নে বুবিস্তা বলেন, ‘তাদের দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফুটবলার রয়েছে। ম্যাচটি কঠিন হবে, সেটা আমরা জানি। কিন্তু আমরা স্পেনের জন্যও সমস্যার সৃষ্টি করব, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।’
এদিকে সম্প্রসারিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপ নিয়ে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিনের কিছু মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে কেপ ভার্দেসহ কয়েকটি দেশের ফুটবল ফেডারেশন আপত্তি জানালেও কোচ বুবিস্তা সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।
তার ভাষায়, ‘ছোট দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপ একটি বড় সুযোগ। আমরা এখানে যোগ্যতার ভিত্তিতেই এসেছি।’
এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপ অভিষেকের মঞ্চে কেপ ভার্দে কতটা লড়াই উপহার দিতে পারে এবং স্পেনের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে নিজেদের গল্প কতদূর নিয়ে যেতে পারে।
সিএ/এমই


