দেশের করদাতাদের উৎসাহিত করতে এবং কর প্রদানের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে আবারও সেরা করদাতা পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন একটি নীতিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার আওতায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে মোট ৬৭ জন করদাতাকে সম্মাননা দেওয়া হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে ‘সেরা করদাতা পুরস্কার নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেট প্রস্তাবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন খাতভিত্তিক শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ২২টি ক্যাটাগরিসহ মোট ৬৭ জন করদাতাকে সেরা করদাতা হিসেবে নির্বাচন করা হবে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর প্রদানে অবদান, নিয়মিত কর পরিশোধ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকার ভিত্তিতে এ স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
সরকারের মতে, করদাতাদের যথাযথ সম্মান ও সামাজিক স্বীকৃতি প্রদান করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কর প্রদানে আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি কর ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি এবং স্বেচ্ছায় কর প্রদানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২২-২৩ করবর্ষে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ১৪১ জনকে সেরা করদাতার সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল। এরপর কয়েক বছর ধরে এ পুরস্কার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মাননা প্রদান শুরু হবে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, করদাতাদের সম্মানিত করার উদ্যোগ শুধু রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রেই নয়, বরং কর প্রদানকে সামাজিক মর্যাদার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেও সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত ও সৎ করদাতাদের স্বীকৃতি দেওয়া হলে অন্যদের মধ্যেও কর পরিশোধে উৎসাহ তৈরি হবে।
নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর পুরস্কারপ্রাপ্তদের নির্বাচন পদ্ধতি, মূল্যায়নের মানদণ্ড এবং সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সিএ/এমআর


