অনিদ্রা ও ঘুমের সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। ব্যস্ত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং কৃত্রিম আলোর প্রভাবে অনেকের রাতের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো এবং ক্যাম্পিং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রা মানুষের শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমের ওপর প্রভাব ফেলে। রাত গভীর পর্যন্ত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ফলে শরীরের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়।
গবেষকদের ভাষ্য, প্রকৃতির পরিবেশে কিছুদিন অবস্থান করলে শরীর আবার স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণের ছন্দে ফিরতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক দিন ক্যাম্পিংয়ে থাকা ব্যক্তিদের জৈবিক ঘড়িতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। তারা তুলনামূলক দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন এবং সকালে বেশি সতেজ অনুভব করেন।
প্রকৃতির পরিবেশে কৃত্রিম আলোর ব্যবহার কম থাকে। সূর্যাস্তের পর স্বাভাবিক অন্ধকার নেমে এলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়, যা ঘুমের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শহরের শব্দদূষণ, যানবাহনের হর্ন কিংবা নোটিফিকেশনের শব্দের পরিবর্তে প্রকৃতির শব্দ মানুষের মনকে শান্ত করতে সহায়তা করে। পাখির ডাক, বাতাসের শব্দ কিংবা ঝিঁঝিঁ পোকার আওয়াজ অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করে।
ক্যাম্পিংয়ের সময় মানুষ সাধারণত খোলা পরিবেশে বেশি সময় কাটায় এবং প্রাকৃতিক আলোতে অভ্যস্ত হয়। এর ফলে শরীরের জৈবিক ছন্দ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়।
তবে সবার পক্ষে নিয়মিত ক্যাম্পিংয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ব্যবহার কমানো, দিনে পর্যাপ্ত সূর্যালোক গ্রহণ, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ঘুমের সময় ঘর অন্ধকার রাখা।
তাদের মতে, স্বাস্থ্যকর ঘুমের জন্য সব সময় ব্যয়বহুল ব্যবস্থা প্রয়োজন হয় না। জীবনযাপনের কিছু ছোট পরিবর্তন এবং প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ ঘুমের মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
সিএ/এমআর


