ইসলামে জীবিত ব্যক্তির দোয়া মৃতদের উপকারে আসে বলে কোরআন ও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া এবং কল্যাণ কামনা করা মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের একটি।
পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে পূর্ববর্তী মুমিনদের জন্য দোয়া করার নির্দেশনা ও প্রশংসা করা হয়েছে। সূরা হাশরের ১০ নম্বর আয়াতে মুমিনদের এমন দোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে নিজেদের পাশাপাশি পূর্বে ঈমান গ্রহণকারী ভাইদের জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।
ইসলামি সূত্রগুলোতে উল্লেখ রয়েছে, হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত নুহ (আ.)-ও নিজেদের পিতা-মাতা এবং অন্যান্য মুমিনদের জন্য দোয়া করেছেন। একইভাবে আল্লাহতায়ালা নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে মুমিন নর-নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন।
তাফসিরবিদদের মতে, এসব আয়াত জীবিত ও মৃত উভয় শ্রেণির মুমিনদের জন্য দোয়ার গুরুত্ব নির্দেশ করে। কোরআনে আরও উল্লেখ রয়েছে যে ফেরেশতারাও মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তাদের কল্যাণ কামনা করেন।
ইসলামি শিক্ষায় জানাজার নামাজকে মৃত ব্যক্তির জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জানাজার নামাজ আদায়ের সময় মৃত ব্যক্তির জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দাফনের পর মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা ও স্থিরতার দোয়া করার বিষয়টিও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। নবী করিম (সা.) সাহাবিদের মৃত ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও তার দৃঢ়তার জন্য দোয়া করতে উৎসাহিত করেছেন।
কবর জিয়ারতের সময়ও মৃতদের জন্য দোয়া করার শিক্ষা ইসলাম দিয়েছে। বিভিন্ন হাদিসে কবরবাসীদের জন্য সালাম ও রহমতের দোয়া পাঠের কথা বর্ণিত হয়েছে। ইসলামি ঐতিহ্যে নবী করিম (সা.)-এর জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে গিয়ে দোয়া করার ঘটনাও উল্লেখ রয়েছে।
আলেমদের মতে, কোরআন ও হাদিসের আলোকে মৃতদের জন্য দোয়া করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। জীবিতদের আন্তরিক দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা মৃত ব্যক্তির জন্য কল্যাণের কারণ হতে পারে বলে ইসলামি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


