বাংলাদেশের আয়তন বা ক্ষেত্রফল সম্পর্কে জানতে চাইলে সাধারণত বলা হয় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, কোনো দেশের আয়তন বোঝাতে ঘন কিলোমিটার না বলে বর্গকিলোমিটার ব্যবহার করা হয় কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে ভাষাগত ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। ইংরেজিতে কোনো দেশের ভৌগোলিক বিস্তার বোঝাতে ‘এরিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, যার অর্থ ক্ষেত্রফল। বাংলায় অনেক সময় এই ক্ষেত্রফলকে ‘আয়তন’ বলা হলেও গণিত ও বিজ্ঞানের ভাষায় ক্ষেত্রফল এবং আয়তন এক বিষয় নয়।
ক্ষেত্রফল দিয়ে কোনো দ্বিমাত্রিক তলের বিস্তার বোঝানো হয়, যার একক বর্গমিটার বা বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে আয়তন হলো ত্রিমাত্রিক কোনো বস্তুর ধারণক্ষমতা বা বিস্তার, যার একক ঘনমিটার বা ঘনকিলোমিটার।
বাংলাদেশের মতো একটি দেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে ভূপৃষ্ঠের ওপর তার বিস্তার বা ক্ষেত্রফল হিসাব করা হয়। এ কারণে দেশের পরিমাপ বর্গকিলোমিটারে প্রকাশ করা হয়। এতে দেশের সীমানার ভেতরে থাকা ভূমি ও জলভাগের মোট পৃষ্ঠতল বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কোনো দেশের প্রকৃত ত্রিমাত্রিক আয়তন হিসাব করতে হয়, তাহলে আকাশসীমা এবং ভূগর্ভস্থ অংশও নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু আকাশসীমা কোথায় শেষ হবে, তা নিয়ে এখনো আন্তর্জাতিকভাবে চূড়ান্ত ঐকমত্য নেই।
কিছু সংস্থা ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিলোমিটার ওপরে অবস্থিত কারমান রেখাকে মহাশূন্যের শুরু হিসেবে বিবেচনা করে। সেই হিসাব ধরলে কোনো দেশের ক্ষেত্রফলের সঙ্গে উচ্চতা গুণ করে ঘনকিলোমিটারে আয়তন নির্ধারণ করা সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক পরিমাপ ব্যবস্থায় এ ধরনের হিসাব ব্যবহার করা হয় না।
এ ছাড়া পৃথিবীও পুরোপুরি নিখুঁত গোলাকার নয়। বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধের তারতম্য রয়েছে। ফলে কোনো দেশের ত্রিমাত্রিক আয়তন নির্ধারণে জটিল গাণিতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রশ্ন সামনে আসে।
এসব জটিলতা এড়াতে বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর ভৌগোলিক বিস্তার প্রকাশে ক্ষেত্রফল বা এরিয়া ব্যবহার করা হয়। তাই বাংলাদেশের পরিমাপ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ঘনকিলোমিটার হিসেবে নয়।
সিএ/এমআর


