ব্যস্ত নগরজীবনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ক্লান্তি এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। তবে গবেষণা বলছে, প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্যও প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকলে শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্কে হাঁটা, গাছপালার মধ্যে সময় কাটানো কিংবা প্রকৃতির শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ অবস্থান করাও মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে সহায়তা করে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ মনে করত প্রকৃতির প্রতি এই আকর্ষণ কেবল আবেগের বিষয়। কিন্তু বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, এর সঙ্গে শরীরের জৈবিক প্রতিক্রিয়ার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
গাছের পাতা নড়ার শব্দ, পাখির ডাক এবং বনভূমির পরিবেশ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে সাহায্য করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকলে শরীরের চাপজনিত প্রতিক্রিয়া কমে আসে এবং মানসিক স্বস্তি বৃদ্ধি পায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রকৃতির মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট সময় কাটালে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে সপ্তাহে অন্তত ১২০ মিনিট সবুজ পরিবেশে সময় কাটানো শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রকৃতির সান্নিধ্য এসব হরমোনের প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় জাপানি সাইপ্রাস বা হিনোকি গাছের ঘ্রাণের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য সম্পর্কও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রকৃতির প্রভাব শুধু দৃষ্টিনির্ভর নয়, ঘ্রাণ ও পরিবেশগত উপাদানও এতে ভূমিকা রাখে। মাটি ও উদ্ভিদ থেকে নির্গত বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান মানুষের মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে গবেষকদের ধারণা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতির ইতিবাচক প্রভাব পেতে সব সময় বনভূমি বা পাহাড়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরে রাখা গাছপালা, জানালার বাইরের সবুজ দৃশ্য কিংবা প্রকৃতির ছবি দেখাও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তাদের মতে, দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও প্রকৃতির জন্য কিছু সময় বরাদ্দ করা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য উপকারী। ছোট ছোট উপায়ে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
সিএ/এমআর


