যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি ও সংঘাত নিরসন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলছে না। আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় সমঝোতার পথ জটিল হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তি থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান এখন পর্যন্ত সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি এবং নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, এসব বিষয়ে ইরান তাদের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করুক। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত না হলে তারা কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে রাজি নয়। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানি জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হওয়ার নিশ্চয়তা না থাকলে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটানোর কোনো চুক্তি মেনে নেবে না।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, উভয় পক্ষই নিজেদের মূল অবস্থান থেকে সরে আসতে অনিচ্ছুক। ফলে আলোচনা চললেও সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে দীর্ঘ আলোচনা হলেও বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—এই তিনটি বিষয় ভবিষ্যৎ যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব বিষয়ে সমাধান না হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা অর্জন কঠিন হতে পারে।
সিএ/এমই


